দর্শক ভাবনা: ‘সারেং দর্শকদের হৃদয়ের নীল দরিয়া থেকে ছাড়া পাবেন না কোনোদিন’

তারুণ্যের ভাবনা বিনোদন


ইন্দ্রাণী মল্লিক

আমার শৈশব কেটেছে একান্নবর্তী একটি সুন্দর পরিবারে। যেখানে ছুটির দিনে দুপুর কিংবা বিকেলে সবাই একসাথে বসে বাংলা ছায়াছবি দেখতাম। আমার বড় জেঠাবাবু একজন সিনেমা প্রেমী হওয়ার সুবাদে বেশ কিছু বাংলা সিনেমা আমি তার সাথে বসেই দেখেছি। তখন আমরা রাজ্জাক, কবরী, ববিতা, সুচন্দা, ফারুক-দের সিনেমা দেখতাম। ফারুক-কবরী জুটি আমার নিজস্ব পছন্দের তালিকায় ছিলো সবার উপরে। তখন খুবই ছোট ছিলাম, সিনেমা জিনিসটা কি তেমন ভালো বুঝতাম না। তারপরেও ফারুক এবং কবরী জুটিকে আমার ভালো লাগতো। জলছবি, সারেং বৌ, আশা এই সিনেমাগুলো আমি বেশ উপভোগ করতাম।
সারেং বৌ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। এখনো আমি ‘ওরে নীল দরিয়া, আমায় দে রে দে ছাড়িয়া’ গানটা গুনগুন করি। আমার অবুঝ মন তখন সেই গ্রাম্য মোড়লকে ভীষণরকম অপছন্দ করেছিলো। কদমের ফিরে আসাতেও আমার মন আনন্দে ভরে ওঠে। ঘূর্নিঝড়ের পরে যখন কদম কাতরাচ্ছিলো পানির জন্য, আর নবিতন এসে পানি খাওয়াতে ব্যর্থ হয়ে কোনো উপায় না পেয়ে কদমকেই নিয়ে গেলো পানির কাছে। কদম তখন পানি মুখে নিয়েই ফেলে দিলো, নবিতন তখন পানি মুখে নিয়ে দেখলো তা নোনা। কদমকে বাঁচাতে সে নিজের বুকের দুধ পান করালো। কদম তখন বলেছিলো নবিতন ‘তুই আমারে পর কইরা দিলি?’ নবিতন উত্তর দিয়েছিলো ‘না, জীবন বাঁচানো ফরজ।’ এই দৃশ্য এখনো আমার মনে দাগ কাটে। এখন আর বাংলা সিনেমায় এসব দৃশ্য দেখা যায় না। এমন সিনেমাও আর তৈরি হয়না। শৈশবের সেই ছুটির দিনের দুপুরগুলো এখনও মনে পরে।
চলচ্চিত্রের কথা বলতে বলতেই মনে পড়ে বায়োস্কোপের কথা। যা আমরা ছোটবেলায় দেখতাম, হাটবাজারে বা কোনো ঐতিহ্যবাহী মেলায় অথবা নিজেদের বাড়ির উঠানে। সেই বায়স্কোপ এখন নেই। সেই চলচ্চিত্র নেই। আমার শৈশবও নেই। শৈশবের সেই সবার সাথে বসে টেলিভিশন দেখার সংস্কৃতিও এখন আর নেই।
কিন্তু আমার জীবনস্মৃতিতে সবসময় নায়ক হয়ে থেকে যাবে ফারুকের মতো কিংবদন্তিরা। আমার প্রিয় সারেং বৌ এর ‘সারেং’ চিরকালের জন্য পাড়ি দিয়েছেন দূরদেশে। তবে, সারেং দর্শকদের হৃদয়ের নীল দরিয়া থেকে ছাড়া পাবেন না কোনোদিন।

শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *