পথের ঘটনা ও দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা নিয়ে মোনাজাতউদ্দিনের “পথ থেকে পথে”

তারুণ্যের ভাবনা শিল্প-সাহিত্য

 শেখ ইমতিয়াজ মাহমুদ সিয়াম:

মোনাজাতউদ্দিন এর লেখা “পথ থেকে পথে” বইটি বিভিন্ন কলামের সমষ্টি। তিনি ঘুরেছেন পথ থেকে পথে। সেই পথের ঘটনা-দুর্ঘটনা নানা ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার কলামগুলো লেখা।

তার কর্মক্ষেত্র ছিল গ্রাম। মূলত তিনি উত্তর অঞ্চল নিয়ে কাজ করেছেন। তার এই বইয়ে তিনি অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন যা মাঝে মাঝে হৃদয় স্পর্শ করে যায়। তাছাড়া রোমাঞ্চকর জার্নি চরম অভিজ্ঞতায় ঠাসা এ বইয়ে ৭০ দশক থেকে দেশের গ্রাম পর্যায়ে বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

বইয়ের  শুরুতেই লেখাটি সবাইকে আবেগতাড়িত করবে সামান্য হলেও। “মিনমিনে কন্ঠে বললাম একটি চাকরি”
শুনেই হয়ত সবাই নিজের সাথে সম্পর্কিত করতে পারবে। আমারা সবাই কিছু সামান্য আয়ের জায়গা খুঁজে নেই নিজেকে চালিয়ে নেওয়ার মতো। ঠিক মোনাজাতউদ্দিন-এর প্রয়োজন ছিল একটি পরিচয় যাকে আমরা চাকরি বলি। এই জীবনে যার কর্মক্ষেত্রের পরিচয় নাই সে এই শহরে নিঃস্ব। চাকরিতো আর মামর বাড়ির আবদার না। তাই মোনাজাতউদ্দিনের চাকরি পাওয়ার যে আকুতি তা সে বেশ মলিন কন্ঠে  বলেছেন বা লিখেছেন। কত শত কষ্ট করে না সেদিন ভাসানির সেই ছবিটি তুলেছেন। সেই রিপোর্ট আদৌও আলোর মুখ দেখবে কিনা তার ভাবান্তরের শেষ নেই । রিপোর্ট হল তা নিউজ আকারে । এর পরেই দৈনিক সংবাদে রিপোর্টার হিসেবে চাকরি পেলেন। এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় নাই। হয়তো এই কারণেই মিনমিনে কন্ঠে বলেছিলেন একটি চাকরি।

এরপরে যে কলামটি আমাকে হাসায় আবার ভাবায় তা হল ” স্পেশাল ভিখারি”। কি একটা বাজে অবস্থা বা সময় ছিল। একটা ট্রেন ঠাসা ভিখারি হয়তো  সেই কারণে ট্রেনটির নামকরণ হয়েছে স্পেশাল ভিখারি। কিছু লোকের কাজই  ভিক্ষা করা। এমনকি বংশ পরম্পরা ভিক্ষাবৃত্তি করে চালিয়ে যাচ্ছে ।  এই সকল কিছুর পেছনে ভাবনাটাও কাজ করে। গ্রাম থেকে কেন তারা শহরে ভিক্ষা করতে যাচ্ছে সেক্ষেত্রে সরকার কি  করছে? এই সব কিছু আমাকে ভাবায়।

“পথ থেকে পথে” বইটি আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে। বইটি কেমন জানি সাংবাদিকতার সর্বস্তরে ছোঁয়া দিয়ে গেছে। ছিল তার রিপোর্ট করার সময় জীবনের ঝুঁকির কথা। কীভাবেই না মরতে মরতে বেঁচে  গেল। ছিল সত্য উৎঘাটন মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া। তাছাড়াও আপনি পাবেন  বিএনপি-আওয়ামী লীগ এবং এরশাদের আমলের স্পষ্ট ধারণা। এই জেনারেশন এরশাদের আমল দেখে নাই কিন্তু পথ থেকে পথে তার উত্থান-পতনের ব্যাপক ধারণা দিয়েছে । ছিল বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার সাথে  ভ্রমণের কথা।  সর্বোপরি দেশের রেলের ভয়াবহ অবস্থার চিত্র খুব সহজেই নিজ মনে আঁকতে পারবেন। কতই না  কষ্ট করে খবর সংগ্রহ করতেন। আপনি সাংবাদিকতায় পেশায় আসবেন আর এই বই  পরবেন না তা  কি হয়।

তার একটি উক্তি আমাকে চরমভাবে ভাবিয়েছে তাহলো “আমার যাত্রা পথে আমার সাথে তিন তিনটি ব্যাগ থাকে তাতে থাকে প্রয়োজনিও সব কিছু। নেই শুধু একটি জিনিস  তা হল আয়না। আপনাদের আছে? দেবেন একটুখানি। না এক্ষুনি না। নিজেদের মুখটি আগে দেখেনিন আগে। তারপর। দেখা কি যাচ্ছে নিজেকে? সত্যি নিজেকে আয়না দিয়ে পরখ করে দেখতে ইচ্ছা করছে।

 

শেখ ইমতিয়াজ মাহমুদ সিয়াম: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *