বিশ্বকাপ ট্রফির গল্প

খেলা

তাজবিহ স্মরণঃ

পুরো বিশ্ব এখন বুঁদ হয়ে আছে ‘বিশ্বকাপ’ নামক এক ফুটবল মহাযজ্ঞে। সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফিটি চার বছরের জন্য নিজেদের করে নিতে ভক্তদের সে কি উত্তেজনা! কিন্তু এই বিশ্বকাপ ট্রফিরও যে গল্প আছে, সে সম্পর্কে আমরা কতজনই বা জানি?

ইতালির ফুটবল প্রশাসক ছিলেন জুলে রিমে। ফিফার সাবেক সভাপতি তিনি। তার নামেই ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফি প্রবর্তন করা হয়। ১৯৩৮ বিশ্বকাপজয়ী ইতালির কাছে ছিল এই ট্রফি।

পূর্বের জুলে-রিমে ট্রফি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিরা যাতে ট্রফির নাগাল না পায় সেজন্য সে সময়ের ফিফার সহ- সভাপতি ইতালির অধিবাসী অতোরিনো বারাসিস ব্যাংকের লকার রুম থেকে ট্রফিটি বের করে নিয়ে যান রোমে। জুতার বাক্সে ভরে বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।

মজার ব্যাপার হলো, ১৯৬৬ সালে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনা ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার চার মাস আগের। চুরি হওয়ার সাতদিন না যেতেই ট্রফিটি উদ্ধার করে পিকেলস নামের একটি কুকুর। ট্রফিটি ছিল খবরের কাগজে মোড়ানো। দক্ষিণ লন্ডনের আপার নরউড অঞ্চলের শহরতলির একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা য ট্রফিটি। ১৯৭০ বিশ্বকাপ তৃতীয়বার জেতে ব্রাজিল। ফলে চিরতরে ট্রফিটি নিজেদের কাছে রেখে দেয় তারা।

রিও ডি জেনিরোতে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তরে ট্রফিটি সযত্নে রাখা আছে। ১৯৮৩-র ডিসেম্বরে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। কিন্তু এইবার ট্রফিটি আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চার বছর পর ১৯৭৪ বিশ্বকাপ থেকে নতুন ট্রফি দিতে শুরু করে ফিফা। এজন্য নতুন নকশা আহ্বান করা হয়। সাত দেশের ৫৩ জন নকশাবিদ নকশা জমা দেন। চূড়ান্ত করা হয় ইতালির শিল্পীর ডিজাইন।

৩৬.৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার ট্রফির ব্যাস ১৩ সেন্টিমিটার। ১৮ ক্যারেটের (৭৫ শতাংশ স্বর্ণ) মূল ট্রফিটি অবশ্য চ্যাম্পিয়ন দলকে একেবারে দেওয়া হয় না। চার বছরের জন্য নিজেদের রাজত্বে রাখতে পারেন তারা। নতুন বিশ্বকাপ আসর আসলেই মূল ট্রফিটি ফিফা ফেরত নিয়ে নেয়। আর চ্যাম্পিয়ন দলকে দিয়ে দেওয়া হয় বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *