বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শন: শ্রেণীকক্ষের বাইরে শেখার একটি দিন

তারুণ্যের ভাবনা

গত ২৩ এপ্রিল সকাল ১০ টায় রাজধানী ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের একদল শিক্ষার্থী রওনা হয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের (জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান) উদ্দেশ্যে। এই ভ্রমনটি ছিল “কম্প্রিহেনসিভ এডিটিং”
কোর্স এবং জেআরএন ভিজুয়ালস এর অধীনে ৭৮ ও ৭৯ ব্যাচের একটি ফটোওয়াক।

শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রওনা করে এবং সকাল ১১টার মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেনে পৌঁছে যায়। এই ভ্রমণের মূলত দুটি উদ্দেশ্য ছিল। এটি কেবল একটি শিক্ষামূলক ভ্রমণ ছিল না বরং বাস্তব জগতের পরিবেশে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং বোঝার সুযোগও ছিল। উভয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা “কম্প্রিহেনসিভ এডিটিং” কোর্সের অধীনে ছবি সংগ্রহ এবং ক্যাপশন লেখার উদ্দেশ্য সেখানে গিয়েছিল।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থীরা যে যার মত ঘুরে দেখা শুরু করে এবং উপভোগ করতে থাকে মনোরম পরিবেশ ও সবুজ গাছ-গাছালি। হঠাৎ শোনা যাচ্ছিল নাম না জানা পাখির ডাক যা পরিবেশকে আরো মনোরম করে তুলছিল। এছাড়াও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। মনে হচ্ছিল ঢাকার বুকে যেন এক টুকরো অক্সিজেন। এমন পরিবেশ উপভোগ করার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে আসে৷

দুই শিক্ষক সদস্য – মিসেস শবনম জান্নাত (সহকারী অধ্যাপক) এবং ফাহরিস্তা সিদ্দিকী (প্রভাষক) এর নির্দেশনায়, শিক্ষার্থীরা বাগানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য অন্বেষণ করেছিল, কর্মীদের সাথে আলাপচারিতা করেছিল এবং ছবির মাধ্যমে নির্মল সৌন্দর্য ধারণে নিযুক্ত হয়েছিল। সমস্ত কথিত এবং অব্যক্ত গল্প ধারণ করার পর, তাদের দায়িত্ব ছিল সেই ছবিগুলির সাথে একটি নিখুঁত ক্যাপশন যোগ করা।

এই মাঠ পরিদর্শনটি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে – পরবর্তী প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতার ক্ষেত্রটি অন্বেষণ করা একটি দারুণ অভিজ্ঞতার বিষয় ছিল। সাংবাদিকতা ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ কেবল শ্রেণীকক্ষে বক্তৃতা প্রদানে বিশ্বাস করে না। এই বিভাগটি সর্বদা শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায় থেকে শেখার জন্য অনুপ্রাণিত করে। এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা সাংবাদিকতার চিন্তা ভাবনা, প্রতিবেদন দক্ষতা এবং পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গল্প বলার জন্য নিদারুণ ভূমিকা রাখে। দিনটি ছিল শেখা, দল গত কাজ, ফটোগ্রাফি এবং আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর উপলব্ধিতে পরিপূর্ণ।

বেলা ২টা নাগাদ শিক্ষার্থীরা উদ্যান থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা করে। পড়া লেখার ফাঁকে এ ধরনের ভ্রমণ মনকে সতেজ করে তোলে এবং আনন্দের পাশাপাশি অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ উপভোগ্য ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *