সাজনাত ছোঁয়া
শনিবার (৩ জুন) স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ও ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ উন্নয়ন (এমআরডিআই) এর যৌথ আয়োজনে
ফেইক কন্টেন্টস্ ও ফ্যাক্ট চেকিং কর্মশালার দুই পর্বের প্রথম পর্বের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ১২ জন শিক্ষার্থী।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী আবদুল মান্নান। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. মোশারফ হোসেন ও সহকারি অধ্যাপক সামিয়া আসাদী। আলোচনায় সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের পটভূমি, তথ্যের প্রকার, নৈতিকতা এবং সত্যতা যাচাই, সত্যতা যাচাইয়ের বাস্তবতা, ফ্যাক্ট চেকিং টুলের প্রবর্তন, ভুয়া সংবাদ শনাক্তকরণ ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করা হয়।

সহকারি অধ্যাপক মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, ‘আমাদের আজকের কর্মশালার একটি অন্যতম উদ্যেশ্য ছিল বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে মিথ্যা তথ্য ও সংবাদ ছড়াচ্ছে এগুলোকে কীভাবে শনাক্ত করা যায় এবং কিছু টুলস ব্যবহার করে কিভাবে মানুষকে সত্যটা জানানো যায় এটিই আমরা শেখালাম। আশা করি শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে এর চর্চা বজায় রাখতে পারবে এবং মিথ্যা সংবাদ থেকে সবাইকে সচেতন করতে পারবে।’
এছাড়াও হাতে কলমে ছবি এবং ভিডিও যাচাইকরণ প্রযুক্তি,গুগল এডভান্সড সার্চ এবং ভূ-অবস্থান যাচাই করা শেখানোর মাধ্যমে কর্মশালাটির মূল পর্ব শেষ হয়।

কর্মশালার বিষয়ে সহকারি অধ্যাপক সামিয়া আসাদী বলেন, ‘আমাদের কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের জানানো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কিভাবে ভুল সংবাদগুলো ছড়িয়ে পড়ছে এবং কিভাবে হচ্ছে এই ব্যাপারগুলো শনাক্ত করা যায়, কিভাবে একটা তথ্য বা সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে হয় এসব আলোচনা করেছি। এছাড়াও, ফ্যাক্ট চেকিং যে শিক্ষার্থীদের একটি পেশা হতে পারে সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি। সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই কর্মশালাটি থেকে ভবিষ্যতে উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।’

কর্মশালায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী বৃষ্টি দাস বলেন, ‘ফ্যাক্ট অর্থাৎ আমরা দৈন্যন্দিন জীবনে কত তথ্যই না পাই,তবে এই সকল তথ্য সত্য কী না তা নিয়ে মনের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মাধ্যমে আমরা এই তথ্যগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারব।’
প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া আরেক শিক্ষার্থী এইচ.এম. রাজিব সাকলাইন বলেন, ‘আজকের কর্মশালাটি আমার কাছে অসাধারণ ছিলো। এর মাধ্যমে বুঝতে পারব যে কোনটা আসল নিউজ আর কোনটা ভুয়া নিউজ । সংবাদের সত্যতা সহজেই নির্ণয় করতে পারব। আবার, কোন ছবিটি এডিট করা আর কোন ছবিটি আসল সেটিও সহজে বের করতে পারছি এখন।’
কর্মশালায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণের মাধ্যমে আয়োজনের প্রথম পর্ব শেষ হয়। রবিবার (৪ জুন) আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
