নাজমুস সাকিব:
নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত লালমাটিয়া নিউ কলোনি মাঠ। মাঠের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। মাঠটি খেলার জন্য হলেও খেলার কোনো পরিবেশই নেই। ধুলোময় মাঠে ঘাসের কোনো অস্তিত্বই নেই। মাঠের এক পাশ দখল হয়ে আছে সড়ক ও ভবন নির্মাণসামগ্রী দিয়ে। অন্য দুই পাশ ময়লার স্তূপ ও নানা ধরনের খাবার এবং চায়ের দোকানে বেদখল হয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক বলেন, কয়েক বছর ধরে মাঠের এমন অবস্থা। দিন দিন মাঠটি ছোট হয়ে আসছে। প্রভাবশালীদের চাপে এখন আর কেউ কিছু বলতে পারে না। ভবন নির্মাণসামগ্রী মাসের পর মাস মাঠে ফেলে রেখে কাজ করা হয়। এছাড়া ভবনগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা এ মাঠেই করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাত হলেই মাঠে নেশাখোরদের আড্ডা বসে। এজন্য রাতে মাঠের পাশের সড়কগুলো দিয়ে নিরাপদে চলাচল করা যায় না। দিনের বেলায় মাঠে ও মাঠের বাইরে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। মাঠের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, আশপাশের বাড়ির ময়লা এখানে ফেলা হয়। এখন আর মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নেই।
এখানে প্রতিদিন খেলতে আসে সাদ্দাম। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠের সবখানে এখন ছোট ছোট ইটের টুকরা পড়ে আছে। এখানে খেলতে এলে আহত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তাছাড়া মাঠটি প্রভাবশালী ও স্থানীয় খাবার ব্যবসায়ীদের চাপে আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, খাবার দোকানদারদের কিছু বলতে গেলে তারা মাঠে খেলা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়। স্থানীয় হওয়ায় তাদের কিছু বলাও যায় না। দিন দিন তারা মাঠ দখল করে নিচ্ছে। দোকানের ময়লা এ মাঠে ফেলায় মাঠের পরিবেশ আরও বেশি নষ্ট হচ্ছে।
ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ হোসেনের বাড়ি মাঠের পাশেই। তিনি সকাল ও বিকেল এখানে হাঁটতে আসেন। তিনি বলেন, মাঠের তিন দিক বন্ধ হওয়ায় এখন আর বেশি হাঁটাহাঁটি করা যায় না। আর মাঠের ভেতরের যা অবস্থা এ বয়সে তা দিয়ে হাঁটা সম্ভব নয়। আর বর্ষায় মাঠে পানি জমে থাকে। তাই মাঠে এসে সবসময় হাঁটাহাঁটি সম্ভব হয় না।
মাঠের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লালমাটিয়া নিউ কলোনির মাঠটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় পড়ে না। এটি গৃহায়ন অধিদফতরের আওতাধীন। তিনি চাইলেও মাঠের সংস্কার করতে পারছেন না। মাঠ ও মাঠের বাইরের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মাঠের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানি। রিকশাচালকদের আড্ডা, নেশাখোরদের আড্ডা, মাঠ দখল রোধে আমি নিজ উদ্যোগে কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।
মাঠটির সংস্কার নিয়ে কথা বললে তিনি মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের মাঠের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজ উদ্যোগে মাঠটি সংস্কার করেছেন। গৃহায়ন অধিদফতর লালমাটিয়া নিউ কলোনির মাঠটি সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করলে তিনি মাঠটি সংস্কারকাজে নেমে পড়বেন। তাছাড়া তিনি মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ৩১ অক্টোবর জাতীয় গৃহায়ন অধিদফতরকে একটি চিঠি দিয়েছেন।
জাতীয় গৃহায়ন অধিদফতর শিগগিরই মাঠটি সংস্কার করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সব মাঠ ২০১৮ সালের মধ্যে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হবে।
লালমাটিয়া নিউ কলোনি মাঠটি ওই এলাকার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাটটি দ্রুত সংস্কার কর হোক।
নাজমুস সাকিব: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
