সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি:
একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে সব ধরণের বৈচিত্র্য ও প্রান্তিকতার সাংবিধানিক স্বীকৃতি অতি জরুরী বলে মনে করনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল। তিনি বলেন, সবার বুঝত হবে, এই ভূখন্ডের বৈচিত্র্যের শেকড়টা ব্যাপক গভীর ও অতি সুপ্রাচীন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) ইনস্টিটিউট অব এপ্লাইড এন্থ্রপোলজি আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় ড. মেসবাহ কামাল এসব কথা বলেন।
এনথ্রোপাবলিক নামের প্লাটফর্ম-এর আলোচনায় জেন্ডার, সেক্স, রেইস, এথনিসিটি, শ্রেনী, জাতিবর্ণ শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিত্ব ইত্যাদির ভিত্তিতে বৈশ্বিক ও বাংলাদেশী সমাজের বহুমাত্রিকতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক অভিযোজন, লৈঙ্গিক বহুমাত্রিকতা, নেটিভাইজেশন, অন্যতা (আদারিং), সাব-কালচার ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেছেন অধ্যাপক এ কে এম মাজহারুল ইসলাম।
মূল আলোচনায় ড. মেসবাহ কামাল বলেন, ‘আমরা ভুল ভাবে সবচেয়ে বেশি বলি হোমোজিনিয়াস সোসাইটি কিন্তু এটা সঠিক না কারণ আমরা যে পরিবেশে বা সমাজে বাস করি তাকে বলা হয় বহু-মাত্রিকতা। বাঙালি জাতি হয়ে উঠার পূর্বে এখানে নানান জাতির মানুষ বা অধিবাসী ছিলেন। পরিবর্তনের ধারায় আমরা বাঙালি হয়ে উঠেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে শহীদ হওয়া পরিচ্ছন্ন শ্রেণির ১০ জন মানুষ শহীদ হয়েছিলেন কিন্তু তাদের স্মৃতিতে কোনো কিছুই করা হয় নি। তারা নিজেরাই একটি শহীদ মিনার তৈরি করেন কিন্তু সেখানেও কেউ যায় নি অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মধ্যেও বর্ণবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে।’
ড. মেসবাহ কামাল বলেন, ডেমোক্রেটিকস স্পেস তৈরীর জন্য সাংস্কৃতিক অভিযোজনের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সংখ্যক মানুষকে একত্রিত করে যেমন সচেতনতা তৈরি করতে পারছি সেরকম প্রতিটি সেক্টরের মানুষকে একত্রিত হয়ে এজেন্ডা তৈরি করতে হবে। আর এর উপরই নির্ভর করবে রাষ্ট্রীয় সংবদ্ধতা।’