খুলে দেয়া হলো সকল পর্যটনকেন্দ্র, মানতে হবে সরকারি নির্দেশনা

বাংলাদেশ

মো. রফিকুল ইসলাম:
করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার শর্তে খুলে দেওয়া হয়েছে দেশের সকল পর্যটনকেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১৯ আগষ্ট) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

১৩-ই আগষ্ট মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়, ১৯ আগষ্ট থেকে পরবর্তি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সকল পর্যটনকেন্দ্র খোলা রাখা যাবে। তবে পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো মোট আসন সংখ্যার শতকরা ৫০ ভাগ ব্যাবহার করতে পারবে। একই সাথে পর্যটকসহ সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলে তাদের বিরুদ্বে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই এই খাতে ধস নেমেছে। ২০২০ সালে দীর্ঘ লকডাউনের ফলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছিলো বলে জানিয়েছিলেন প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল এসোসিয়েশন (পাটা বাংলাদেশ চ্যাপটার)। এছাড়া কয়েক লক্ষ মানুষ হারিয়ে ছিলেন তাদের কর্মস্থল, যেহেতু এই খাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবে অনেক মানুষ সংযুক্ত আছে, ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যাটা বলা কঠিন। তবে বছর শেষে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দিলেও চলতি বছর আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো, ফলে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ভবিষ্যৎ এর সম্ভাবনাময় এই খাত।

কক্সবাজারের হোটেল গ্রিন প্লেসের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জীবন বলেন”বর্তমানে ভ্রমনের জন্য সুপার পিক টাইম চলছে, বছরের দুই ঈদে যেখানে হোটেলে গেস্টদের জন্য রুম দিতে পারি না, সেখানে এবার ঈদগুলোতে লকডাউনের জন্য ছিল একদম ফাকা, গত দুই বছরের তিনটা ঈদে এমন চিত্র থাকায় নানান সমস্যার মধ্যে আছি। আশা করি, আর বন্ধ হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু খোলা থাকুক”।

রাঙামাটির ডিঙি রিসোর্টের একজন স্বত্বাধিকারী রেদওয়ান খান বলেন, ‘করোনা প্যান্ডামিকের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেওয়া লকডাউনের ফলে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার লোকসান হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কারনে হয়তো আর লোকসান হবে না কিন্ত আগের লোকসান কখনো পোষানো যাবে না। কারন আমরা তো আর ভাড়া বাড়াতে পারবো না ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *