সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি
জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীঃ রক্তস্নাত ইতিহাস” শীর্ষক ওয়েবিনার। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) এই অনলাইন আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহাকারী অধ্যাপক তপন মাহমুদ লিমন ও জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের মূখ্য সম্পাদক শাহানাজ পারভিন লাকি।
ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফুদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তা ছিলেন জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের
নির্বাহী পরিচালক ড. সানিয়া সিতারা এবং অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ প্রামাণিক।
ওয়েবিনারের শুরুতে শহীদ বুদ্ধিজীবী মোঃ সাদেক এর একটি জীবনালেখ্য নিয়ে উপস্থাপিত প্রবন্ধে তপন মাহমুদ লিমন বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী মোঃ সাদেকের হৃদয়ে ছিল বাংলার জন্য গভীর টান এবং স্বাধীনতার জন্য প্রবল আকুতি। তবে এই রাষ্ট্র একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী তার স্মৃতি সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।’
শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের এর জীবনালেখ্য ও চেতনালক্ষ্য নিয়ে প্রবন্ধে শাহানাজ পারভিন লাকি বলেন, ‘তিনি একজন প্রগতিমনা বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বদেশভূমিকে পরাধীনতা থেকে মুক্তির পথ অনুসন্ধান ও সোপান নির্মাণ করেছিলেন। যারা তাত্ত্বিক ও বৌদ্ধিক পরামর্শ দিয়েছিলেন রাজপথের বাইরে থেকে তার মধ্যে অন্যতম একজন ড. আবুল খায়ের ছিলেন সেক্যুলার জাতীয়তাবাদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ নির্মাণে বিশ্বাসী একজন ঐতিহাসিক।’
জন ইতিহাস চর্চার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. আবুল খায়ের এর কন্যা বলেন বাবা মারা যাওয়ার সময় আমার বয়স ছিল ৩ বছর। তাই বাবার স্মৃতি যা পেয়েছি সবই সকলের কাছ থেকে নেয়া স্মৃতি এবং বাবার রোল মডেলে আমরা বড় হতে পারি নি।
ইতিহাস নিয়ে সুন্দর একটি গবেষণা চালানোর জন্য জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শহীদ মোঃ সাদেক পুত্র ড. কামরুল হাসান। তিনি বলেন আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। সেই সাথে মাকেও দেখেছি কীভাবে একা আমাদের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আব্বার কিছু জিনিস স্মৃতিচারণ হিসেবে জাদুঘরে দিয়েছি এবং কিছু আমাদের কাছে রেখেছি।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে ড. শরীফুদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। এই চর্চা সবাইকে অব্যাহত রাখতে হবে।
ওয়েবিনারে জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি ড. মেসবাহ কামালসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
