বেকারত্ব ঘুচাতে বাহারি উদ্যোগ

ফিচার

মেসবাহ হাসান:

দেশে বিশাল বেকার জনগোষ্ঠী তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণগুলোর একটি হলো উদ্যোক্তার অভাব। এই অভাবটি মূলত সৃষ্টি হয়েছে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে না পারার ভীতির কারণে। আমরা অনেকেই ভাবি যে  সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে সৃজনশীল হতে হবে কিংবা যুগান্তকারী আইডিয়া থাকতে হবে। কিন্তু ব্যাপারটি সম্পূর্ণরূপে ওরকম না। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে কাজ করে আরো অনেকগুলো বিষয়। তার মধ্যে প্রধান হলো কর্মপরিকল্পনা গুলোর সঠিক বাস্তবায়ন। তারই উৎকৃষ্ঠ উদহারণ রেখেছে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানার কাছে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট গ্রুপ ও স্বল্প পুঁজি নিয়ে নতুন নতুন ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী এইসব আয়োজন নিয়ে লিখেছেন মেসবাহ হাসান।

 সততার দোকান

সততা মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই মানুষকে সদা সর্বদা কথা ও কাজে সততা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হবে এবং মিথ্যার অভিশাপ ও গ্লানি থেকে বাঁচতে হবে। যার মধ্যে এ গুণের সমাহার থাকবে সমাজের সব ধরনের মানুষ তাকে ভক্তি শ্রদ্ধা করবে। সম্মানের চোখে দেখবে, পরম মায়ায় জড়িয়ে রাখবে। প্রত্যেক ধর্মেও বলা হয়েছে সততার গুণে গুণান্বিত হওয়া কথা। এরই লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘সততার আলো’ ছড়িয়ে দিতে একটি দল উদ্যোগ নেন ‘সততা স্টোর’ চালু করার। ক্যাম্পাসের সেমিনার কক্ষে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সিংগাড়া, সমুচা, কেক বিক্রি শুরু করেন তারা। অন্য দোকানের চেয়ে এর ব্যাতিক্রম ছিলো কোনো দোকানি ছিলো না টাকা নেওয়ার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কেউ সিংগাড়া কেউ সমুচা কেউ কেক নিয়ে সকালের নাস্তা করে। নাস্তা শেষে নির্দিষ্ট বক্সে টাকা রেখে যায় তারা। সততা স্টোরের উদ্যোক্তারা বলেন, প্রথমে খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম কী নিয়ে ব্যবসা শুরু করবো। পরে এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে নামটার সন্ধান পাই। কিন্তু কী বিক্রি হবে সেখানে এরকম প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মাথায় আসলো ক্যাম্পাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা সকালের নাস্তা করে না। এজন্য আমরা যদি স্বল্প খরচে তাদের এই নাস্তা দিতে পারি তাহলে ব্যবসায় মুনাফা পাওয়া যাবে। সেই চিন্তা থেকে পন্য বাছাই করা হয়। এই গ্রুপের সদস্যরা হলেন, সুমাইয়া রিমি, সাঈদ মোল্যা ও মিশুক হাওলাদার।

সততার দোকান

জ্ঞান বিতান

জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে বেশ কিছু গুণাবলি বা দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে, হোক সেটি ব্যক্তিগত জীবন কিংবা চাকরি জীবন। এমন অনেক সফল ব্যক্তিত্বের উদাহরণ রয়েছে যাঁরা নিজের চেষ্টায় বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছেন। Warren Buffett, Bill Gates, Mark Cuban, Elon Musk, Mark Zuckerberg তাদের কে না চেনে! তাঁরা রয়েছেন পৃথিবীর সবচেয়ে সফল ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষ স্থানে। এখন প্রশ্ন হলো তাদের সাফলতার মূলমন্ত্র কী ছিলো? উত্তর তাঁরা সবাই নিয়মিত বই পড়েন। তাঁদের মধ্যে জ্ঞানের প্রতি যে অসীম তৃষ্ণা রয়েছে তা মেটানোর জন্যই হচ্ছে বই পড়া। তাই জ্ঞানের তৃষ্ণাকে লাঘব করতে ৫০০ টাকা পুঁজি নিয়ে বই বিক্রির জন্য ক্যাম্পাসের এক কোণে খুলে বসেন জ্ঞান বিতান। নীলক্ষেত থেকে বিভিন্ন ধরনের পুরোনো বই স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে স্টলে রাখেন তারা। পাঠকরা তার পছন্দ মত বই ক্রয় করে নিয়ে যায়। দিন শেষে জ্ঞান বিতানের লাভের ঘরে যুক্ত হয় ১৫০ টাকা। এই গ্রুপের সদস্য ছিলেন, তামান্না নাজনিন, নিরব দাশ, অঙ্কন বিশ্বাস ও দ্বীন ইসলাম।

জ্ঞান বিতান

মেসেঞ্জার

মেসেঞ্জার যার বাংলা অভিধানিক অর্থ বার্তাবাহক। প্রথমে নামটা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। এই গ্রুপের কাজটা ছিলোও একটু ব্যতিক্রমধর্মী। তারা বার্তাবাহক হয়ে জনে জনে পৌঁছে দিতে চায় বিভিন্ন ম্যাসেজ। কিন্তু এটা দ্বারা মুনাফা অর্জন কীভাবে সম্ভব? তাই তারা বাছাই করে নিয়ে ফুল বিক্রির পথ। প্রতিটি ফুলের সাথে  চমক প্রমোদ প্ল্যাকার্ডযুক্ত করে জনে জনে পৌঁছে দিচ্ছে জলবায়ু নিয়ন্ত্রনের ম্যাসেজ। সবুজ নগর সবুজ দেশ গড়বো টেকসই বাংলাদেশ এই স্লোগানকে মূলমন্ত্র করে ৫০০ টাকার ফুল ক্রয় করে বিক্রি শুরু করেন উদ্যোক্তারা।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। দিন শেষে তাদের লাভের খতিয়ানে যুক্ত হয় ২২০ টাকা। এই তরুণ উদ্যোক্তরা বলেন, আমরা চেয়েছি জলবায়ুর নিয়ন্ত্রনের ম্যাসেজ মানুষের কাছে পৌঁছাতে। আমরা স্বপ্ন দেখি জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার। জলবায়ুর ক্ষতিকর পদার্থগুলো বর্জন শুরু হোক আমাদের নিজেদের ঘর থেকে। তাই আমাদের এই স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসায়ের পাশাপাশি মানুষকে একটি করে ম্যাসেজ দিতে পেরেছি।এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন।এই গ্রুপের সদস্য ছিলেন মেসবাহ হাসান, ইসরাত আহমেদ অদিতি, তানজিনা তাসনিম আশা ও তানভীর আহমেদ।

মেসেঞ্জার

মেসবাহ হাসান: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *