মোঃ সাবিবর হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় জমিসহ ঘরের মালিক হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪৫ পরিবার। মুজিব বর্ষে সরকার ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করবেন।
সারা দেশর আটটি স্থানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলার জন্য যুক্ত হতে পারেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা রয়েছে। এর আগে গত রবিবার উপকারভোগী ৪৫ জনের উপস্থিতে আখাউড়ার সাবরেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত জমির দলিল সম্পাদন করেন।
আখাউড়া মোগড়া ইউনিয়নের চরনারায়ণপুর মৌজায় বানানো হচ্ছে উপকারভোগী ৪৫ জনের ঘর। দুই শতক জায়গার উপর একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। ৪৫টি পরিবার প্রধানের মধ্যে দুইজন ভিক্ষুক, তিনজন স্বামী পরিত্যক্তা, চারজন বিধবা, চারজন রিকশা চালক, পাঁচজন ফেরিওয়ালা, তিনজন অটোরিকশা/ভ্যান চালক, চারজন পাহারাদার, দুইজন ঠেলাগাড়ি চালক, দুইজন জেলে, একজন চায়ের দোকানদার, সাতজন শ্রমিক, একজন কাঠমিস্ত্রী, তিনজন গৃহকর্মী, একজন ইমাম, একজন আশ্রিত ও দুইজন বিক্রয় কর্মী রয়েছেন।
উল্লেখ্য, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম দফায় ১০৯১ জন ঘর পাওয়ার কথা রয়েছে । এর মধ্যে সদর উপজেলা ৩২, বিজয়নগরে ১০০, সরাইলে ১০২, নবীনগরে ৪৮৫, নাসিরনগরে ৯১, বাঞ্ছারামপুরে ৬৪, আশুগঞ্জে ৬৮, কসবায় ১০৪ ও আখাউড়ায় ৪৫ গৃহহীন পরিবার পাবে মাথা গোঁজার ঠাঁয়। এর মধ্যে সার্বিক দিক থেকে আখাউড়ার ঘর নির্মাণ কাজসহ বাকি সব দিক দিয়েই ভালো হয়েছে।
আখাউড়ার ইউএনও মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, ‘ঘরের জন্য সরকারি বরাদ্দের বাইরেও উপজেলা পরিষদ থেকে বাড়তি বরাদ্দ দিয়ে এখানে কিছু কাজ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে যেন দোকানঘরও নির্মাণ করে দেয়া যায় সেই অনুযায়ী জায়গা রাখা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌঁলা খান বৃহস্পতিবার নিজ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রত্যেক গৃহহীনকে ঘর দেয়ার কথা বলেছেন। সেই বিষয়টিই এখন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। বলা চলে একটি বিপ্লব ঘটতে চলেছে। বৈষম্যহীন সমজা গড়ার যে পদক্ষেপ সেটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ২৩ জানুয়ারি উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী আখাউড়ার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে উপকারভোগিসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য দোয়া করেন উপকারভোগীরা এবং বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারে তাদের স্বপ্ন হচ্ছে পূরণ।
