লেখার মাঝেই অমর হয়ে আছেন হুমায়ূন আহমেদ

শিল্প-সাহিত্য

মো. আল আমিন তুষার:

বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অস্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে পরলোক গমন করেন এই কথা সাহিত্যিক। একাধারে তিনি ছিলেন উপন্যাসিক, ছোটগল্পকার,নাটক, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার এবং চলচ্চিত্রনির্মাতা।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে তার মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা । তার বাবা চাকুরী সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছেন বিধায় হুমায়ূন আহমেদ দেশের বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের কিশোরী মোহন পাঠশালায় সেখানে তিনি ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ১৯৬৩ সালে বগুড়া জিলা স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে তিনি এই বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। তিনি পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং প্রথম শ্রেণীতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ৫৬৪ নং কক্ষে তার ছাত্রজীবন অতিবাহিত করেন।

বছরের পর বছর যার সহজ কথা উল্লেখ আয় ভক্ত হয়েছে হাজারো পাঠক। এমনকি যারা বই পড়তে অভ্যস্ত নয় তাদের অনেকেই বই পড়ার হাতে খড়ি নিয়েছে তার লেখার মাধ্যমেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দুই শতাধিক গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস রচনা করেছেন। তার রচনার প্রধান কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো ‘গল্প-সমৃদ্ধি’। এছাড়া তিনি অনায়াসে ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে অতিবাস্তব ঘটনাবলীর অবতারণা করেন যাকে একরূপ যাদু বাস্তবতা হিসেবে গণ্য করা যায়। তার গল্প ও উপন্যাস সংলাপপ্রধান। তার বর্ণনা পরিমিত এবং সামান্য পরিসরে কয়েকটি মাত্র বাক্যের মাধ্যমে চরিত্র চিত্রণের অদৃষ্টপূর্ব প্রতিভা তার রয়েছে। যদিও সমাজসচেতনতার অভাব নেই তবু লক্ষ্যণীয় যে তার রচনায় রাজনৈতিক প্রণোদনার উপস্থিতি কম । সকল রচনাতেই একটি প্রগাঢ় শুভবোধ ক্রিয়াশীল থাকে; ফলে ‘নেতিবাচক’ চরিত্রও তার লেখনীতে লাভ করে দরদী রূপায়ণ। এ বিষয়ে তিনি মার্কিন লেখক জন স্টাইনবেক দ্বারা প্রভাবিত। অনেক রচনার মধ্যে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধির প্রচ্ছাপ লক্ষ্য করা যায়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস মধ্যাহ্ন তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে পরিগণিত। এছাড়া জোছনা ও জননীর গল্প আরেকটি বড় মাপের রচনা, যা কি-না ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বন করে রচিত। তবে সাধারণত তিনি সমসাময়িক ঘটনাবলী নিয়ে লিখতেন। তার নানা অর্জনের কথা আর নাই বা বললাম। হাজারও পুরস্কার তার অবদানের কাছে ছোটই হবে।

বইমেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখে নির্দ্বিধায় বলা যেত এইখানেই পাওয়া যায় হুমায়ন আহমেদের বই। এখনো যে তার বইয়ের জন্য ভিড় কম হয় তা কিন্তু নয়। কারণ তিনি যে মহান লেখক। আজ হয়তো তিনি নেই কিন্তু রয়ে গেছে তার সকল লেখা, সকল বই, রয়ে গেছে তার তৈরি চরিত্র গুলো। আর লেখার অনুকরণেই তৈরি হচ্ছে আরো চরিত্র, তৈরি হচ্ছেন নতুন নতুন লেখক, বাড়ছে পাঠক সংখ্যা। আসলেই কি তিনি হারিয়ে গেছেন অন্য জগতে? নাকি রয়ে গেছেন আমাদের মাঝে? কিংবদন্তি কি কখনো হারাতে পারে। বাংলা সাহিত্য যতদিন আছে, আচ্ছা বাংলা ভাষা ততদিনই ও অমর হয়ে থাকবেন এই কিংবদন্তি কথা সাহিত্যিক।

মো. আল আমিন তুষার: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *