​’ফুটবল ট্রেক’ ফুটবলপ্রেমীদের আড্ডাখানা

খেলা

মাহফুজুর রহমান:

বিশ্বের সব থেকে জনপ্রিয় খেলা এখন নিঃসন্দেহে ফুটবল। ফুটবল খেলে না এমন কোন দেশ খুজে পাওয়া এখন দুস্কর। উত্তেজনা, আনন্দ, বেদনা,নেশা কি নেই এই খেলায়।খেলাটার উৎপত্তি ইংল্যান্ডে বলে ইউরোপে এর জনপ্রিয়তা বেশি কিন্তু সাফল্যের হিসেবে তা ল্যাটীন আমেরিকার সাথে সমানে সমান!!

৯০ মিনিটের খেলা বলে এবং প্রতিটি সেকেন্ডে, মুহুর্তে প্রবল উত্তেজনা থাকে বলে সারা বিশ্বে এই খেলার তুমুল জনপ্রিয়তা !!! সবচেয়ে দামী খেলার মধ্যে গলফের পরেই ফুটবলের অবস্থান !! কিন্তু যে মহাদেশে (ইউরোপ) এই খেলা জনপ্রিয় সেই দেশের সাথে আমাদের এশিয়া মহাদেশের সময়ের বিরাট ব্যবধান থাকার কারনে এশিয়ার মানুষদের রাত জেগেই তাদের খেলা দেখতে হয়। আর দেখবেই না বা কেন!

এই ইউরোপে লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, বুন্দেসলিগা, সিরিয়া, লিগ ওয়ান ইত্যাদির মত বড় আসরের লিগ গুলো অনুষ্ঠিত হয়। দর্শক, স্পন্সরসহ সব বানিজ্যিক হিসাবের কেন্দ্রবিন্দু থাকে এই লিগ গুলো। তার সাথে ট্রান্সফার রিউমার, নতুন টিম কীট, ফুল প্যাকড স্টেডিয়াম এর কারনে এই লীগ গুলো ফুটবলে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। প্রতিযোগিতার মাত্রা আরো বিস্তৃত ভাবে ছড়িয়ে দেবার জন্য আছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। যা ইউরোপের সেরা লীগ গুলোর সেরা কয়েকটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এশিয়ার মানুষদের সারাদিন স্কুল, কলেজ, চাকরী ব্যবসার খাটুনি শেষে ইউরোপের লিগ গুলার খেলা দেখতে হয় সেই হিসেবে সব থেকে নিবেদিত এবং আগ্রহী ভক্তদল বলা যায় এশিয়ার দর্শকদের বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশকে। ২ টা দেশ এর মানুষের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ দেখা যায় ভার্চুয়াল জগতে। বাংলাদেশের ফুটবলের বিবর্ন, বিধ্বস্ত অবস্থা তারা ভুলে যেতে যায় বিশ্ব ফুটবলে গা ভাসিয়ে। কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ আসলে তারা হয় ন্যাশনার টিমগুলোর পাগল ফ্যান।ঠিক বিশ্বকাপ টা শেষ হওয়ার পর সেই হাহাকার, বেদনা, শুন্যতা থেকে বাঁচার জন্য ফুটবল ফ্যানরা শরনাপন্ন হয় ইউরোপের চাকচিক্যময় ক্লাব ফুটবলের দিকে।

মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়ে গড়া দল, ঐতিহ্য, ইতিহাস, রেকর্ড সমৃদ্ধ দল কে সাপোর্ট দিতে শুরু হয়ে যায় ফুটবল ফ্যানদের তুমুল প্রতীক্ষা !!
শুরু হয়ে যায় রাত জেগে খেলা দেখা এবং উপভোগ করা। কিন্তু কাহিনী আর মজা কি এখানেই শেষ।

এই যুগে এখন বন্ধু-বান্ধব দের মধ্যেই ফুটবল নিয়ে তর্ক বিতর্ক সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগের কল্যানে এখন ফুটবল নিয়ে অনেক পেজ এবং গ্রুপ খোলা হয়েছে। যেখানে ম্যাচ পুর্ববর্তী, ম্যাচ চলাকালীন স্কোর আপডেট,খেলোয়াড়দের দলবদল এর গুঞ্জন , টিম স্কোয়াড নিয়ে অসংখ্য পোস্ট করা হয়। এমন ই এক নিউট্রাল ফুটবল গ্রুপ হলো Football Trek, ট্রেক শব্দের অর্থ কঠিন রাস্তায় পদভ্রমণ, অসংখ্য নিম্নমানের গ্রুপের মাঝে একটি ভাল এবং সুস্থ সুন্দর পরিবেশের গ্রুপ গড়ে তোলা কঠিন রাস্তায় এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে কম কিছু নয়।

গ্রুপের সদস্য মাত্র ১১ হাজার। কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া কিছু ফুটবল পাগল ছেলেদের গড়ে তোলা গ্রুপ। গ্রুপের এডমিনরা
লেইম বা সস্তা ট্রল কে গুরুত্ব দিয়ে বা অযথা গণহারে মেম্বার বাড়িয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা করতে চায় না।এডমিন দের উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশ এ প্রথন স্বচ্ছ পরিবেশ এর তথ্যসমৃদ্ধ গ্রুপ গড়ে তোলা।

ট্রেক গ্রুপের আরো কিছু ভাল দিক যদি তুলে ধরি সেটা হলোঃ
প্রথমত ট্রেকের লক্ষ্য। গ্রুপের একদম শুরু থেকেই যতটা সম্ভব তথ্যমূলক পোস্ট দেয়ার জন্য মেম্বারদেরকে এডমিনরা আগ্রহী করার চেষ্টা করছে। সেটা কোন খেলোয়াড়কে নিয়ে পর্যালোচনা হোক, বা কোন টিম অথবা কোচ। ম্যাচ বাই ম্যাচ কবে কোন খেলা, ড্র, স্কোয়াড এবং ট্রান্সফার রিউমার নিয়ে আপডেট এইসব দিক গুলো বেশি বেশি পোস্ট করছেন এডমিন মেম্বার রা,তাতেই সত্যিকারের ফুটবল ফ্যান রা আগ্রহ পাচ্ছে গ্রুপটিকে উপভোগ করার।

দ্বিতীয়ত গ্রুপের নিয়মাবলী তে বাজে এবং অশ্লীল শব্দের ব্যবহার করে কমেন্ট করা,আক্রমণাত্মক কথা বার্তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে সোজা ব্যান লিস্ট এ পাঠিয়ে দেয়া হয়। আসলেই একটা গ্রুপের লক্ষ্য হওয়া উচিত কোয়ান্টিটি থেকে কোয়ালিটির দিকে গুরুত্ব দেয়া যা ট্রেকের এডমিন দের প্রথম উদ্দেশ্য ।

তৃতীয়ত, ১৫-২০ জন এলিট মেম্বার আছেন যারা নিয়মিত এত তথ্য সহকারে পোস্ট করে বাকি মেম্বার দের বলতে গেলে পোস্ট করার আর কিছু বাকি থাকে না।
সারারাত জেগে অনেক সময় যাদের ইউরোপিয়ান ফুটবল খেলা দেখা সম্ভব হয় না তারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল টা নিয়ে ট্রেকে ঢুকলেই পেয়ে যাচ্ছেন সব আপডেটেড ফুটবল নিউজ । টাকা দিয়ে পত্রিকার নিউজ পড়ার দিন তাহলে এবার আসলেই ফুরালো !!

এছাড়া,বাংলাদেশ এর ক্লাব ফুটবল নিয়েও ট্রেক এ প্রতিদিন পোস্ট হয় যেটা আর কোনো গ্রুপে হয় না। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ এর ফুটবল এর ২০১৭ মৌসুম শেষ হলো স্বাধীনতা কাপ দিয়ে যা নিয়ে প্রচুর পরিমাণ এ আলোচনা হয়েছে ট্রেক এ।

আর সর্বশেষ বলতে হয়, গ্রুপের এডমিন দের কার্যকরীতার কথা। গ্রুপ ক্রিয়েটর এবং অন্যান্য এডমিন মডারেটর রা যেভাবে গ্রুপ কে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করছেন তা সত্যি ই অতুলনীয়। গ্রুপে কোনো আজেবাজে কিছু দেখলেই “রিপোর্ট টু এডমিন” অপশন ব্যবহার করার সাথে সাথেই এডমিন রা সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নেন। তাছাড়া গ্রুপে নিত্য নতুন কুইজ কন্টেস্ট,প্রেডিকশন পোস্ট, আর্টিকেল লিখার প্রতিযোগিতা এগুলা খুব ভালোমতো পরিচালনা করে ট্রেকের এডমিন প্যানেল।

ফুটবল ট্রেক গ্রুপে শুধু বার্সা রিয়ালের ভক্ত আছে এরকম নয়,এখানে আছে বায়ার্ন, ম্যানচেস্টার সিটি,ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি,জুভেন্টাস, এসি মিলান,আর্সেনাল, লিভারপুলের অনেক শক্ত ভক্তকূল। কেও কারো থেকে তর্কা তর্কি তে কম যায় না। কিন্তু সবই যুক্তিযুক্ত তর্কাতর্কি।

নিরপেক্ষ গ্রুপগুলো হিসেবে ট্রেক ও প্রশংসিত হোক সেটাই কামনা।
কারন ফুটবল গ্রুপের প্রধান ভিত্তি ই হচ্ছে খেলার প্রতি ভালবাসা যা ট্রেকের প্রতিটি মেম্বার এডমিন দের মধ্যে অপরিসীম।

আবারো বলি,Trek এর বাংলা অর্থ দাড়ায় ভ্রমণ। ফুটবলের এই ভ্রমণের জোয়ার ভেসে চলো।

মাহফুজুর রহমান: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৫৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *