এজিয়ান ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭১

আন্তর্জাতিক

আবুল কাশেম আকাশ:
এজিয়ান সাগরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে তুরস্কে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির দূর্যোগ সংস্থা। এছাড়া গ্রীকের কর্তৃপক্ষ স্যামোসে ২ জনের মৃত্যু এবং ১৯ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরী ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এএফএডি) হিসাব মতে আহত ৯৪০ জন।

উপকূলীয় শহর ইজমিরেতে সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তুরষ্ক। ইজমিরের বেরাকলি জেলায় যে ২০টি ভবন ধ্বসে পড়েছিল তার একটি থেকে ৩৩ ঘন্টা পর রবিবার ৭০ বছর বয়সী আহমেদ সিতিম নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া শনিবারও উদ্ধারকর্মীরা একজন মা ও তার চার সন্তানকে উদ্ধার করেছিল।

ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ ছিল বলে জানিয়েছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক কান্দিলি ইনস্টিটিউট। যার উৎপত্তিস্থল ছিল সামোসের উত্তর পূর্বে এজিয়ান সাগরে।

যে ভবনের ধ্বংসস্তুপ থেকে সিতিমকে উদ্ধার করা হয়, সেখান থেকেই ভূমিকম্পের ১৭ ঘন্টা পর ১৬ বছর বয়সী ইনসি ওকান ও তার কুকুর ফিস্তিককে উদ্ধার করা হয়েছিল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সে বলেন, “আমি খুব খুশি। ভাগ্য ভাল আমার বাবা বাসায় ছিলেন না। বাবা সেখানে ভালভাবে থাকতে পারতেন না। হয়ত তার মাথায় আঘাত লাগত। আমি ছোট। ছোট হওয়ার কারণেই আমি ফাঁকার মধ্যে পড়েছিলাম। এ কারণে আমাকে উদ্ধার করাও সম্ভব হয়।” তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেনিতন কোচা এবং ন্যাশনাল মেডিকেল রেসকিউ টিমের (ইউএমকেই) সদস্য এদানুর দোগান হাসপাতালে ওকানকে দেখতে যান।

নানা বিরোধের জেরে শত্রুভাবাপন্ন দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা জাগিয়েছে এই বিশাল ভূমিকম্প। দুই দেশের সরকার প্রধান ভূমিকম্পের পর টেলিফোনে কথা বলে পরষ্পরের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।

তুর্কি ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াট অকটে জানিয়েছেন, ‘ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ধসে পড়া ভবনগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। এই ভূমিকম্প শুধু মানুষ নয় ভবনগুলোকেও নাড়িয়ে দিয়েছে।’ উল্লেখ্য, ভূতাত্ত্বিকভাবে তুর্কি উপকূল ভূমিকম্পপ্রবণ। ১৯৯৯ সালে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

সূত্র: আলজাজিরা, সিএনএন, বিবিসি ও বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *