শামস মাশরাকা:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করতেন শাহজাদপুর বস্তির শিশু হাসান। ছোট দুই ভাই-বোনসহ টানাপোড়েনের সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস মা। করোনায় তার পোশাক কারখানাও নিয়মিত চলছে না। তাই, একটু আয়ের আশায়, স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে একটি মোটর ওয়ার্কশপ কাজ শুরু করেছেন হাসান।
হাসানের মায়ের মতো, অনেকটা বাধ্য হয়ে, দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ঠেলে দিচ্ছেন বিভিন্নরকম ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের দিকে। ফলে বাড়েছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ কোটিতে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরে বেড়েছে ৮৪ লাখ। কোভিড-১৯ এর প্রভাবের কারণে আরও লাখ লাখ শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছে এমন একটি সংগঠন ‘মুক্ততরী’র কর্মী অভি কর বলেন, আমাদের সংগঠনের একটা স্কুল ছিলো যেটা এখন বন্ধ শুধুমাত্র এই শিশুশ্রমের জন্য। মা বাবা স্কুলে পাঠায় না, কারন স্কুলে আসলে সেই সময়টা তারা আয় করতে পারে না।
বিভিন্ন গাড়ির গ্যারেজ সহ নানা ধরনের ঝুকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছে শিশু শ্রমিকরা। বিভিন্ন শিশুর সাথে কথা বলে জানা যায়, কম বেতনই অনেক কাজ আদায় কারে নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। একবেলা খাবার ও মাসিক বেতন অনকে সময় দেয়া হয় না ঠিকভাবে।

শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে রাজধানী বাড্ডার গ্যারেজ মালিক খলিলুর রহমান বলেন, ‘স্কুল বন্ধ থাকায় ওদের পরিবার থেকেই এখানে দিয়ে গেছে। সবার পারিবারিক অবস্থা তো একরকম না। আমি কাজ না দিলে হয়তো অন্য কোথাও গিয়ে কাজ করবে।’
ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা গেছে, শিশুশ্রমে নিয়োজিত ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ২৮ শতাংশ এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৩৫ শতাংশ স্কুলের বাইরে রয়েছে। জরিপে আরো দেখা যায়, সব বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেই মেয়েদের তুলনায় ছেলে শিশুদের শিশুশ্রমে নিযুক্ত হওয়ার হার বেশি।

সেইভ দ্যা চিল্ড্রেনের সদস্য সাইদুল করিম রবিন বলেন, ‘করনোর ফলে নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার মৌলিক চাহিদাগুলোই পূরণ করতে পারছে না। ফলে, এরা ঘরের শিশুদের বিভিন্ন ধরনের কাজে পাঠিয়ে দেয়। করোনা মহামারিতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
