মো. আল আমীন তুষার
শুরুতেই বলে নেয়া ভাল, এখনো বিশ্বের অনেক দেশেই মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি বিটকয়েন। বাংলাদেশ ব্যাংকও ২০১৪ সালে বিটকয়েন লেনদেনকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এরপরও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বিটকয়েন। ফলে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিটকয়েনের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’ সম্মেলনের এক সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বাংলাদেশে কীভাবে দ্রুত ডিজিটাল মুদ্রার প্রচলন করা যায়, তা খতিয়ে দেখার জন্যে কাজ করতে চেয়েছেন। বর্তমানে ১ বিট কয়েন এর মূল্য ১৪,৪৬,৩১২ টাকার কাছাকাছি। প্রতি ঘণ্টায় বিটকয়েনের মূল্য পরিবর্তিত হয়। যত সময় যাবে বিটকয়েনের মূল্য তত বাড়বে বলে ধারনা। তাহলে আসুন জেনে নেই কি এই বিটকয়েন।
বিটকয়েন হল একটি ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি যা দিয়ে শুধু নেট জগতেই লেনদেন চলে। এটি এমন একটি মুদ্রা যা কাগজে ছাপা হয় না। সোনা, রুপো, তামার কয়েনেও নয়।এটি একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা। অনলাইনে ডলার পাউন্ড ইউরোর পাশাপাশি কেনাকাটা করা যায় বিটকয়েনে। তবে, অন্যান্য মুদ্রাব্যবস্থায় যেমন কোন দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে,বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা নয়।
১৮ই আগস্ট ২০০৮ সালে bitcoin.org ডোমেইন নাম নিবন্ধন করা হয়। এর মাধ্যমেই যাত্রা শুরু হয় বিটকয়েনের। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের কেউ কিংবা একদল সফটওয়্যার ডেভেলপার নতুন ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার প্রচলন করে। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনলাইনে দুজন ব্যবহারকারীর মধ্যে সরাসরি (পিয়ার-টু-পিয়ার) আদান-প্রদান হয়। লেনদেনের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি নামের একটি পদ্ধতি। বিটকয়েন ব্যবহারকারীদের জন্যে সব থেকে জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে www.weusecoins.com ।
বিটকয়েনের বিনিময়ে প্রথম পণ্য কেনা হয় ২০১০ সালের ২১ মে। বিটকয়েন ব্যবহারকারী লাসজলো (Laszlo) ১০ হাজার বিটকয়েন মুদ্রার বিনিময়ে ২৫ ডলার মুল্যের একটি পিৎজা কেনেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিটকয়েন আলোচনায় আসার কারণ মূল্যস্ফীতি। অবৈধ হওয়ার পর নানা কারণে বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। সবচেয়ে বড় কারণটা হলো বিটকয়েনে বিনিয়োগ করলে কয়েক গুণ লাভ হবে, এমন একটা ধারণা অনেকের মধ্যে আছে। এছাড়া নিজের পরিচয় প্রকাশ না করেই এতে লেনদেন করা যায় এই মুদ্রা। একই সাথে লেনদেনের ব্যয় খুব কম। ট্রানজেকশন সময়ও কম লাগে বিটকয়েনের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মুদ্রার উপর চাপ কমাতে ডিজিট্যাল মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো উচিত। বিটকয়েন যেহেতু প্রথম ডিজিট্যাল মুদ্রা, তাই এর ব্যবহার মানুষ বেশি করছে।
বিটকয়েনের রয়েছে কিছু অসুবিধাওঃ
১) এর অন্যতম অসুবিধা হল, কোনও কারণে লেনদেন যদি অসম্পূর্ণ হয়ে যায়, গ্রহীতা সেই সেবা না পেলেও মুদ্রা ফেরত পাওয়ার কোনও উপায় নেই।
২) বিটকয়েন ‘ওয়ালেট’ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট (ড্যামেজ) হয়ে গেলে এটি আর ফিরে পাওয়া যাবে না। বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েন একেবারেই স্থিতিশীল নয়।
৩) এর ব্যবহার ক্রমে বাড়ছে, কিন্ত তা প্রচলিত মুদ্রার তুলনায় খুবই সীমিত পরিসরে। তাই একে প্রচলিত মুদ্রায় পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে হয়।
৪) বিটকয়েনে কোনও ক্রেডিট ব্যবস্থা নেই। এটি একটি ভালো দিকও বটে, কিন্ত বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতি চলছে ক্রেডিট নির্ভর ব্যবস্থায়। ক্রেডিটের উপর ভিত্তি করে আমরা বিভিন্ন পণ্য সেবা নিয়ে থাকি।
বিটকয়েন রাখার জন্য কোন ব্যক্তি কে অবশ্যই একটি অনলাইন ওয়ালেট থাকতে হবে প্রতি বিটকয়েন ওয়াললেট এর বিপরীতে একটি ইউনিক আইডি বা অ্যাকাউন্ট নম্বর দেয়া হয়। যেখান থেকে আপনি বিটকয়েন খরচ করতে পারবেন অথবা, জমা করতে পারবেন। বিটকয়েনের ভগ্নাংশ কেনাও সম্ভব। উদ্ভাবকের নামের সঙ্গে মিল রেখে বিটকয়েনের ভগ্নাংশ সাতোশি নামে পরিচিত। এক বিটকয়েনের ১০ কোটি ভাগের এক ভাগ হলো এক সাতোশি।
বিটকয়েন সংগ্রহ বা উপার্জন:
১) অন্যান্য মুদ্রার মতো কোন কিছু ক্রয় বিক্রয় করে আপনি বিটকয়েন পেতে পারেন।
২) অন্য কোন মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে বিটকয়েন পাওয়া যায়।
৩) কোন ওয়েব সাইটে কাজ করার মাধ্যমে।
৪) এটি যেহেতু একটা ক্রিপ্টোকারেন্সি, অর্থাৎ অনলাইন মাইনিং (একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদম প্রক্রিয়া) এর মাধ্যমে বিট কয়েন সংগ্রহ করা যায়।
