চারদিক ক্লিক: গহনার রাজ্য সাভারের গয়না গ্রাম

গ্যালারি

সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়ন গয়না গ্রাম হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত। ভাকুর্তা ইউনিয়ন ঘুরে ফটো ফিচার তৈরি করেছেন গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত।

 

ভাকুর্তা বাজারে সবচেয়ে পুরানো দোকানের একটি মেসার্স মালেক স্টোর। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দোকানটি। দোকানের মালিক আবদুল মালেক। দোকানটিতে নানান ধরনের অলঙ্কার বিক্রি হয়। এই দোকানের অধীনে অলঙ্কার তৈরির পিছনে কাজ করছেন এক হাজারের অধিক শ্রমিক।

 

দোকানের সামনে অলঙ্কার সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। সকলে পছন্দ মতো দেখে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অলঙ্কার।

 

মেসার্স মালেক স্টোর দোকানের মালিক আবদুল মালেক। তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে অলঙ্কার ব্যবসার সাথে জড়িত। ৯০’দশকের শেষের দিকে অলঙ্কার তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ ঢাকার তাঁতি বাজারে তিনি অলঙ্কার তৈরির মূল কাজটা শিখেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

 

অলঙ্কার তৈরিতে ব্যস্ত ভাকুর্তা বাজারের কারিগরেরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে থাকেন তারা। কাজের চাহিদা বেশি থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করতে হয় কারিগরদের। চোখের সমস্যা সহ নানান স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়েও কাজ করতে হয় তাদের।

 

কারিগরেরা যেখানে অলঙ্কার তৈরির কাজ করেন তাকে কারখানা বলা হয়। ভাকুর্তা ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন এক হাজারের অধিক ছোট-বড় কারখানা। আর অলঙ্কার তৈরির পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন প্রায় ১০ হাজারের অধিক মানুষ।

 

ভাকুর্তা বাজারের স্বপ্না জুয়েলারী ওয়ার্ক সপের মালিক গোলক চন্দ্র সরকার। ভাকুর্তা বাজারে সবচেয়ে পুরানো অলঙ্কার কারিগরদের একজন। ঢাকার তাঁতি বাজারের ওস্তাদ রাজেশ সরকারের কাছ থেকে কাজ শিখেন তিনি। কাজ শেখার পর ১৯৯২ সালের দিকে ভাকুর্তা বাজারে চলে আসেন তিনি। অলঙ্কার তৈরির পেশার সঙ্গে তিনি ৪০ বছর যাবত যুক্ত আছেন।

 

অলঙ্কার ছাঁচে দিয়ে তা আগুনে পোড়াতে হয়। দোকানের পাশে ইটের প্রলেপ তৈরি করে তার উপর কয়লা দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে তৈরি করা অলঙ্কার।

 

গয়না গ্রাম খ্যাত ভাকুর্তা বাজারের শতাধিক দোকানে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে অলঙ্কার বিক্রি করা হয়। ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা সপ্তাহে একদিন গিয়ে বিরাট পরিমাণে অলঙ্কার ক্রয় করেন। পাশাপাশি খুচরা অলঙ্কার কেনার সুযোগ রয়েছে। এরকম তিনটি আংটির একসঙ্গে খুচরা মূল্য ১২০ টাকা।

 

ডাকুর্তা বাজারে প্রায় একশোটি অলঙ্কার বিক্রি দোকানের বিপরীতে কালার হাউজ রয়েছে মাত্র দুটি। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে অলঙ্কার তৈরি করার পর ঢাকার তাঁতি বাজারে কালার করা হয় অলঙ্কার গুলো। সেখান থেকেই সম্পূর্ণ পলিস করে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশের অলঙ্কারের দোকানগুলোতে পাঠানো হয় অলঙ্কার গুলো। অলঙ্কারের মধ্যে চার ধরনের রং করে থাকে তারা। রং গুলো হচ্ছে—সিলভার, এসেস, গোল্ডের মধ্যে জিপি কালার ও ড্রাই কালার। অলঙ্কারের সাইজ-এর ওপরে নির্ভর করে দাম।

 

 

ববিতা রাণী সরকার একজন দক্ষ অলঙ্কার কারিগর। ২০ বছর যাবত তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। ননদ জামাইয়ের কাছ থেকে কাজ শিখে গ্রামের ৩০ জন নারীকে কাজ শিখিয়েছেন এপর্যন্ত। নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ভাকুর্তা বাজারে তার স্বামী নারায়ণ সরকার অলঙ্কারের দোকান রয়েছে। এক বছর যাবত কাজ করতে পারছেন না শারীরিক সমস্যার কারণে। সুস্থ থাকাকালীন সময়ে মাসে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন বলে জানান।

 

গ্রামের মহিলারা নিজ হাতে নানান ধরনের চেইন তৈরি করে থাকেন। এমনি একটি কদম চেইন দেখাচ্ছেন এক নারী কারিগর।

 

নারীদের পাশাপাশি ভাকুর্তা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে বাড়িতে বসে অলঙ্কার তৈরি করেন পুরুষরাও। তেমনি রূপার তাজমহল পায়েল তৈরি করছেন একজন পুরুষ। তাজমহল পায়েলের ছাঁচ হাতে তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *