মোঃ সাফায়েত হোসেন শান্ত
নৌকার ছাউনির নিচে মায়ের পাশে বসে আছে ছোট্ট একটি শিশু। চারপাশে হাঁড়ি-পাতিল ও সংসারের নানা জিনিসপত্র। নৌকার এই ছোট্ট জায়গাটিই তাদের ঘর। ছবিতে শিশুটির মুখে হাসি থাকলেও, এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ বাসস্থানের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

বেদে সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার নৌকায় বসবাস করে এবং জীবিকার প্রয়োজনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়। এই চলাচল শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবারগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। এর ফলে শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে ওঠে।
নৌকার সীমিত জায়গায় রান্না, ঘুমানো ও সংসারের অন্যান্য কাজ চলে। ফলে শিশুদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্য আলাদা জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকলে তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশ্রাম ও খেলাধুলা এবং সুরক্ষার অধিকার রয়েছে। পরিবারের পেশা বা জীবনযাত্রার ধরন কোনো শিশুকে এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কারণ হতে পারে না। বেদে শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে তাদের পরিবারের চলমান জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা পাওয়ার পথও সহজ করা জরুরি।
মায়ের পাশে বসে থাকা শিশুটির হাসি ছবির একটি কোমল মুহূর্ত। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যেন শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ হারিয়ে না যায়। বেদে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নৌকাই ঘর হলেও তাদের ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধ হয়ে না পড়ে।