বইমেলার কারণে বিক্রি বেড়েছে চুড়ি-টিপ-ফুলের

বাংলাদেশ

উম্মেহানি আইরিন

ঢাকার অমর একুশে বইমেলা চত্বরে বাহারি সাজে ঘুরতে দেখা যায় অনেক তরুণীকে। হাতে চুড়ি, কপালে টিপ আর মাথায় ফুলের রাউটার। এসবই বইমেলার খুব সাধারণ সাজ হিসেবে পরিচিত। তাই মেলাকে কেন্দ্র করে এসব সাজ সরঞ্জামের বিক্রিও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চুড়ি বিক্রি করেন আছমা আক্তার। আছমার স্বামীও এখানকার চুড়ি বিক্রেতা। এখানেই পরিচয় দুজনের। পরিচয় থেকে পরিণয়। সারাবছর এখানে ফুল বিক্রি করেই সংসার চলে তাদের। তবে, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার কারণে বিক্রি কিছুটা বেশি হয়। জানালেন, ‘আমি বহু বছর ধইরা এখানে চুড়ি বিক্রি করি। বইমেলার কারণে অন্য মাসের থেকে ফেব্রুয়ারি মাসেই একটু বেশি বেচাকেনা হয় আমাগো। অল্প বয়সের মেয়েরাই বেশি চুড়ি কেনে। তারা সেজেগুজে আসে, এখান থেকে চুড়ি, কানের দুল কিনে নেয়।’

বছরের অন্য সময়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে চুড়ি বিক্রি করলেও বইমেলা এলে মেলার প্রবেশ পথেই বসেন আরেক বিক্রেতা মোঃ সবুজ। তার মতে, এখান দিয়ে মানুষ মেলায় যাওয়া আসা করার সময় মানুষের সামনে পড়লে অনেক সময় দরকার না থাকলেও এসব জিনিস কেনে। সবুজ বলেন, ‘অনেকে তো দেখা যায় বইমেলায় আইসা বই কেনে না কিন্তু গহনা, চুড়ি ঠিকই কেনে। মেলার সময় প্রতিদিন ৫-৬ হাজার টাকার শুধু চুড়িই বিক্রি করি।’

এখানেই ফুল বিক্রি করেন আরিফুল ইসলাম। জানালেন, ‘ফুলের বেচা-বিক্রির মৌসুম কিন্তু এই ফেব্রুয়ারি। বইমেলায় অনেক মানুষের জনসমাগম হয় সেজন্য এখানে বিক্রিও বেশি। সব ফুলই মানুষ পছন্দ করে তবে গোলাপ ফুলটা বেশি বিক্রি হয়।’

সাজগোজ প্রিয় বাঙালি নারীর মনকে তৃপ্ত করতে মেলা থেকে শুরু করে সবরকম উৎসবমুখর পরিবেশে দেখা মেলে হরেকরকম গহনা বা অলংকারের দোকান। এবারের অমর একুশে বইমেলাও তার ব্যতিক্রম নয়। নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আজকাল তরুণীরা সাজে এনেছে ভিন্নতা। তরুণ তরুণীর কথা মাথায় রেখে দোকানীরা নিয়ে বসেছে গোলাপ, গাঁদা, কাঠগোলাপ, রজনীগন্ধাসহ ভিন্ন রঙ ও ভিন্ন ঘ্রাণের ফুল এবং রঙ বেরঙের চুড়ি।

পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীদেরকেই ক্রেতা হিসেবে বেশি দেখা যায়। বইমেলার আসপাশের দোকানদাররা যে গহনা বা চুড়ি বিক্রি করেন সেগুলো একটু ভিন্ন ডিজাইনের আর দামেও তুলনামূলক কম বলে মনে করেন বইমেলায় আসা বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থী অথৈ। তিনি বলেন, ‘ছোটখাটো প্রয়োজনীয় এই জিনিসগুলো কেনার জন্য আলাদাভাবে দোকানে যাওয়া হয় না। সেজন্যই ভাবলাম কিনে নেই, এক কাজে দুই কাজ হয়ে যাবে।’

বইমেলার সামনে থেকেই ফুল কিনে মায়ের খোঁপায় পরিয়ে দিচ্ছেন মীম। শাড়ির সাথে চুড়ি, টিপ, ফুল পরতে বরাবরই ভালো লাগে মীমের। বইমেলায় এসেছেনও শাড়ি পরে মায়ের সাথে। এসেই কিনে নিলেন পছন্দের ফুল আর চুড়ি। তিনি মনে করেন, বইমেলায় প্রবেশের আগে যদি পোশাকের সাথে মানানসই গহনা কিংবা চুড়ি কেনা যায় তাহলে মন্দ হয় না।

বই মেলায় আসা পাঠক কিংবা দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় এসব দোকানে। প্রিয়জনকে খুশি করতে তার পছন্দের ফুল কিনে খোঁপায় গোঁজার দৃশ্য আপনাকে আনন্দ দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *