সামিয়া আসাদী
পণ্যের প্রচারে আমরা কত কিছুই না করি! এইতো সেদিন ভারতীয় তেলেগু মুভি ‘আর আর আর’ নাটু নাটু গানের জন্য বেস্ট অরিজিনাল গানের ক্যাটাগরিতে গোল্ডেন গ্লোব অর্জন করলো। গোল্ডেন গ্লোবের এ অর্জনকে নির্মাতা রাজা মউলি কতটা কাজে লাগাবেন জানিনা। কিন্তু ম্যাকডোনাল্ডস কিংবা ডাবুরের মতো ব্র্যান্ড তাদের ভারতীয় বিজ্ঞাপনে এ অর্জনকে কিন্তু ঠিকই কাজে লাগিয়ে ফেলেছে। নাটু নাটু .. দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে মোটামুটি নিজেদের ব্র্যান্ডের হালকার উপর ঝাপসা প্রমোশন করে ফেলেছেন। একদম মোমেন্ট মার্কেটিংর খাসা উদাহরণ যাকে বলে আরকি!
সাধারণত, আলোচিত ও সমসাময়িক কোন ইস্যুকে ভিত্তি করে যখন পণ্যের প্রচারণা চালানো হয়, তখন তাকে মোমেন্ট মার্কেটিং বলে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ মার্কেটিং অর্গানিক রিচ বাড়ায়। একইসাথে কম খরচে আর অনেকটা মুফতেই কনটেন্ট তৈরি করা যায়। ট্রেন্ডি ইস্যু বলে ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অডিয়েন্সের কাছে ইস্যুটা সমসাময়িক হওয়ায় সহজবোধ্য ঠেকে, ফলে এনগেজমেন্ট বাড়ে।
আবার কিছু বিষয় লক্ষণীয়, আপনাকে মোমেন্ট মার্কেটিংয়ের মুহূর্ত বা মোমেন্ট বুঝতে হবে। সঠিক মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। যে ইস্যু নিয়ে মার্কেটিং করতে যাচ্ছেন তা অডিয়েন্সের মাথায় থাকতে থাকতে কনটেন্ট প্রচার করতে হবে।
তার থেকেও বড় কথা, আপনার পণ্যের ভ্যালু যুক্ত করতে ঐ ইস্যু আসলেই যথার্থ কিনা তা নিয়ে সবার আগে ভাবা দরকার। শুধু ট্রেন্ডি বা ভাইরাল বলে অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট উপস্থাপন করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কিংবা কেবল ভাইরাল ঘটনার মোহে পড়ে নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে মোমেন্ট মার্কেটিংর মোমেন্ট ধরতে গেলে ব্যবসার উন্নতির বদলে ধসের চক্করে পড়তে হবে।
এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক একটি উদাহরণ দিতে চাই। বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এক মেয়ে তার মা-কে খুঁজে পাচ্ছেন না এমন একটি ইস্যু ভাইরাল হয় (ইস্যুর পিছনে অনেক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, সেটি আমার আলোচ্য বিষয় নয়)। ‘সুলতানস ডাইন’ নামে পরিচিত একটি খাবারের দোকান এ ইস্যু দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করে। বিজ্ঞাপনের বেইজ লাইনে লেখা ছিল ‘জান ফিরে পেতে চাইলে চলে আসুন সুলতানের কাচ্চিতে’! মেয়ের ক্রন্দনরত ছবির কাটআউট আর সাথে নিখোঁজ মায়ের ছবি ইনসেটে দিয়ে বানানো হয় বিজ্ঞাপনের ইলাস্ট্রেশন। এক কথায়, একটি জঘন্য মোমেন্ট মার্কেটিংর উদাহরণ।
প্রথমত, খাবারের দোকানের সাথে বিষয়টি একেবারেই বেমানান। তার থেকে বড় কথা, কারো জীবনের অসহায়ত্বকে পুজিঁ করে (তা যত বড় ভাইরাল ইস্যুই হোক না কেন) ব্যবসা করার চিন্তা করা শুধু নীতিহীন কাজই নয়, প্রচণ্ড অমানবিকও বটে। কাজেই, মোমেন্ট ধরতে গিয়ে ব্র্যান্ডের মান বাড়বে নাকি উল্টো মান কমবে তা জেনে বুঝে মোমেন্ট মার্কেটিং করা উচিত। মোমেন্ট মার্কেটিং যেন হুজুগে মার্কেটিং-এ পরিণত না হয়।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।


