অপরাজিত তেত্রিশে বিরাট কোহলি!

খেলা

তাজবিহ স্মরণ
ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এবং এসময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির ৩২তম জন্মদিন আজ। ১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি প্রচণ্ড নেশা ছিল কোহলির। ছোটোবেলায় নাকি তার মাত্র দুটি পোশাক ছিল, একটা ক্রিকেটের জার্সি আর একটা স্কুলের ইউনিফর্ম। ক্রিকেটের প্রতি ছেলের এমন টান দেখে মাত্র ৯ বছর বয়সেই বাবা প্রেম কোহলি ছেলেকে দিল্লি ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করে দিয়েছিলেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পেয়ে যান কোহলি। ২০০২-২০০৩ সালের পল্লী উমরিগার ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান করে ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছিলেন তিনি। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার জন্য ডাক পান কোহলি।২০০৮ সালে পান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কত্ব। সে বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জেতেন অধিনায়ক কোহলি।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের হয়ে অভিষেক হয় বিরাট কোহলির এবং সেই থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ভারতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যান।

৮৬ টেস্ট, ২৪৮ ওয়ানডে এবং ৮২ টি টি-টোয়েন্টিতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা বিরাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যান রেকর্ডময়। তিনটি ফর্মেটেই এই ভারতীয় অধিনায়কের ব্যাটিং গড় ৫০ এর উপর! তিন ফরমেট মিলিয়ে ৭০টি সেঞ্চুরি এবং ওয়ানডেতে সাড়ে ১১ হাজারের উপর রানের মালিক ‘চিক্কু’ খ্যাত এই বিরল প্রতিভার ব্যাটম্যান।

২০১১ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বিরাট কোহলি। ২০১৪ সালের শেষের দিকে খেলাটির দীর্ঘতম ফরম্যাট টেস্টে তিনি এমএস ধোনির কাছ থেকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৭ সালে ধোনি যখন তিন ফরম্যাট থেকেই অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন তখন তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব উঠে বিরাট কোহলির কাঁধে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এ বিরাট কোহলি ২০০৮ সালে টুর্নামেন্টের সূচনা থেকেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০১৩ সালে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরো সময়ের অধিনায়ক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আইপিএলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোহলি সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। তিনি আরসিবির হয়ে এখনো আইপিএল শিরোপা ঘরে তুলতে না পারলেও ২০১৬ সালে বেঙ্গালুরুকে টুর্নামেন্টের ফাইনালে নিয়ে যান তিনি।

২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালের সিয়েট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার, ২০১২ সালে আইসিসি ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার, ২০১৩ সালে অর্জুন পুরস্কার, ২০১৭ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার, ২০১৬ সালে উইজডেন লিডিং ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার হন বিরাট কোহলি।

এছাড়াও ২০১৭ সালে আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার এবং আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট একাদশের অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কোহলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *