শুভ জন্মদিন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো!

খেলা

তাজবিহ স্মরণ
১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের মাদিরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সঙ্গে মিল রেখে তার এই নাম রেখেছিলেন তার মা। রোনালদোর বাবা ছিলেন মালি আর মা পেশায় রাঁধুনি।

মাত্র তিন বছর বয়স থেকে রোনালদো ফুটবলের সংস্পর্শে আসেন। ফুটবলার হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মাত্র ১২ বছর বয়সে খেলা শুরু করেন স্পোর্টিং দ্য লিসবোনে।

২০০৩ সালে ১২.২৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন রোনালদো। আর এই ক্লাবেই তিনি গায়ে জড়ান ঐতিহ্যবাহী ৭ নম্বর জার্সি, যেটা পরে এক সময় মাঠ কাঁপিয়েছেন জর্জ বেস্ট, ব্রায়ান রবসন, এরিক ক্যান্টোনা ও ডেভিড বেকহ্যাম।

ইউনাইটেডের হয়ে তার অর্জনের খাতায় রয়েছে তিনটি লীগ, দুটি ফুটবল লীগ কাপ ও একটি করে চ্যাম্পিয়ন্সস লিগ, এফএ কাপ, এফএ কমিউনিটি শিল্ড কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখানেই জয় করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি অর।

২০০৯ সালে দলবদলের বিশ্বরেকর্ড গড়ে ৯৪ মিলিয়ন ইউরোতে পাড়ি জমান স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। নয় বছরে এই ক্লাবকে ইউরোপ সেরা করেছেন চারবার আর লীগ জিতিয়েছেন দুই বার। সেই সাথে ব্যালন ডি অরও জিতেছেন চারবার। নিত্যনতুন রেকর্ড গড়েছেন,আবার নিজেই ভেঙ্গেছেন সেই রেকর্ড!

২০১৮ সালে ৩৩ বছর বয়সেও রোনালদো নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে পাড়ি জমিয়েছেন ইতালির তুরিনোতে। সেখানেও একেরপর এক গোলের রেকর্ড করে দেখিয়ে দিয়েছেন বয়সটা রোনালদোর জন্য একটা সংখ্যামাত্র!

ক্লাবের মত জাতীয় দলেও সফল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে তিনি জিতিয়েছেন উয়েফা ইউরো কাপ। ২০১৯ সালে পর্তুগালকে উয়েফা ন্যাশন্স লীগ জেতাতেও রেখেছেন মুখ্য ভূমিকা।

শুধু এই সময়ের না, ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অনেকের মতে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ প্লেয়ার তিনি। ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিলিয়ে অফিশিয়াল গোলের হিসেবে এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই।

রোনালদো সম্পর্কে সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেন, “ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দীর্ঘ ২৬ বছরের ম্যানেজেরিয়াল ক্যারিয়ারে আমার আন্ডারে যেসব গ্রেট বা খুব ভালো প্লেয়াররা খেলেছিলো কাউকেই আমি ছোট করতে চাইছি না, কিন্তু তাদের মধ্যে কেবল চারজনই ওয়ার্ল্ড ক্লাস ছিলো। তারা হলো- এরিক কান্তোনা, রায়ান গিগস, পল স্কোলস এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর তাদের মধ্যে ক্রিস্টিয়ানো ছিলো ক্রিসমাস ট্রি এর উপর সাজানো অলংকার স্বরূপ।”

একজন সাধারণ মানুষ পরিশ্রমের জোরে নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে পারে তার অন্যতম উদাহরণ এই রোনালদো। রোনালদোর জীবনকাহিনী শেখায়, একজন মানুষ যেখান থেকেই উঠে আসুক না কেনো, তার গন্তব্য ঠিক করতে পারে সে নিজেই। শুভ জন্মদিন, সিআর-৭।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *