চিরবিদায় নিলেন ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তী ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বুধবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জেতানো আর্জেন্টিনার ফুটবল ইশ্বর।
আর্জেন্টিনাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ খবর নিশ্চিত করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, ম্যারাডোনার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি আলবারতো ফারনান্ডেজ। তিনি এক শোকবার্তায় লিখেছেন, `ম্যারাডোনা, আপনি আমাদের বিশ্বে উচ্চ আসন দিয়েছেন। আপনি সবার সেরা।’
ম্যারাডোনার মুত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। এছাড়া তার মৃতুতে শোক জানিয়েছেন সারা বিশ্বের ফুটবলারসহ তার ভক্তরা।
আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি ম্যাচ খেলে ম্যারাডোনা ৩৪টি গোল করেছন। এছাড়া, চারটি বিশ্বকাপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই কিংবদন্তী।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই শিরোপা জেতানো ছাড়াও ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির হয়ে স্মরণীয় মৌসুম উপহার দিয়েছেন ম্যারাডোনা। নাপোলিকে দুবার সিরি ‘আ’ ও উয়েফা কাপ জিতিয়েছেন ম্যারাডোনা।
দারুণ ফুটবলে যেমন নন্দিত ছিলেন, তেমনটি নিন্দিতও ছিলেন বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে। বিশেষ করে, কোকেন সেবন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার ফুটবল ক্যারিয়ারে। যে কারণে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলাই হয়নি এই কিংবদন্তির। ১৯৯১ সালে ড্রাগ পজিটিভ হয়ে ১৫ মাস নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি।
এ মাসের শুরুতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হয় সাবেক নাপোলি ও বোকা জুনিয়র্স তারকাকে। প্রথম দিকে দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু অ্যালকোহল আসক্তির কারণে নানা জটিলতা দেখা দেওয়ায় অনেক বেশি সময় সেখানে থাকতে হয়। যদিও তার চিকিৎসকদের অভিযোগ ছিল, জীবনের প্রতিটি সময় নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের স্বভাবসুলভ আচরণে মগ্ন থাকা ম্যারাডোনা হাসপাতালে থাকতে চাননি। চিকিৎসকের নিষেধের পরও হাসপাতাল ছাড়তে উঠেপড়ে লেগেছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত গত ১২ নভেম্বর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতাল ছাড়েন ম্যারাডোনা। তবে বুধবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে থেমে গেল তার জীবনযাত্রা।
