‘মাসের ভিতর কদিন বিদ্যুৎ থাকে সে খেয়াল তাদের নাই’

বাংলাদেশ সারাদেশ

আত্নজ রহমান:
গেলো মাসের ২৫ শে জুন সন্ধ্যা থেকে ২৬ শে জুন রাত প্রায় নয়টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। থেমে থেমে বা একটানা- এরকম লোডশেডিং প্রায়ই ঘটছে দীর্ঘদিন ধরেই। কিন্তু কোন ভাবেই মিলছে না সমাধান। তবে, পল্লী বিদ্যুত অফিসের প্রায় একই উত্তর, ‘লাইনে সমস্যা’।

বাজিতপুর উপজেলার গাজিরচর ও কুলিয়ারচর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই সমস্যায় ভুগছেন। তারা বলছেন, কারণে-অকারণে বিদ্যুৎ থাকছে না দিনের পর দিন। হাল্কা বাতাস কিংবা ঝড় আসার আগেই বিনা নোটিশে দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। রমজান মাসেও ১৫ দিন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে নি পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ।

গাজিরচর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আমির হোসেন বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ও তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অসচেতনতার জন্য আমরা সীমাহীন অসুবিধার সাথে ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও বসবাস করেই যাচ্ছি।’

গাজিরচর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তার দোকানে আইসক্রিম জাতীয় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।
আমার দোকানে আট থেকে দশ হাজার টাকার পণ্য আছে, এগুলো নষ্ট হলে পল্লী বিদ্যুৎ কি আমাকে ভর্তুকি দিবে?’

এলাকাবাসী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এভাবে নামের বিদ্যুৎ দিয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার কোন মানে হয় না। মনে হচ্ছে, পল্লী বিদ্যুৎ এর লক্ষ্য জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায় করা, কিন্তু সেবা দেওয়া নয়।’

এলাকাবাসী জানান, ‘মাসের ভিতর কদিন বিদ্যুৎ থাকে সে খেয়াল তাদের নেই কিন্তু মাস শেষে বিলের কাগজ ঠিকই ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর দেরি হলে জরিমানা তো আছেই।’

তবে, এতসব প্রশ্নে প্রায় একই উত্তর আসে পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের কাজ থেকে। যেমনটি বলছিলেন, পল্লী বিদ্যুৎ এর কুলিয়ারচর জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ মকবুল হোসেন চৌধুরী, তেত্রিশ কেবি (মেইন লাইন) সমস্যা থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *