বরফ গলা নদী : জহির রায়হান যেখানে আজও প্রাসঙ্গিক

শিল্প-সাহিত্য

উম্মেহানি আইরিন

জীবনের প্রতিটি দিন একইরকম হয় না। হয়তো কোনো দিন ভালো, আবার কোনো দিন একটু খারাপ যায়। তবে এই ভালো খারাপের জন্য কারও জীবন কি থেমে থাকে? আমাদের ছোট কিংবা বড় কোনো কষ্টই কী জীবনের এই ছুটে চলা গতিকে রোধ করতে পারে? কিংবা আমরা চাইলেই কি এই জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াতে পারি? এইসব প্রশ্নের যথার্থ উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে জহির রায়হানের লেখা কালজয়ী উপন্যাস ‘বরফ গলা নদী’ তে।

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পাওয়া না পাওয়া, দুঃখ-দুর্দশা, বেকারত্বের হতাশা, বিত্তের প্রতি ঘৃণা, ভাই-বোনের ভালবাসা, খুনসুটি সবকিছুই সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। আমাদের বুঝিয়েছেন জীবন আসলে কারও জন্য থেমে থাকে না, জীবন জীবনের গতিতেই চলমান। হাসমত আলী ও তার স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তান মাহমুদ, মরিয়ম, হাসিনা, খোকন ও দুলু-কে নিয়ে এই উপন্যাস। তারা একটি পুরাতন ভাঙা বাড়িতে বসবাস করে যেখানে একটু বৃষ্টি হলে সব কিছু ভিজে যাওয়ার ভয়ে ঘটিবাটি নিয়ে ছুটতে হয়। মাহমুদ একটি পত্রিকা অফিসে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করে। তার স্বপ্ন একদিন অনেক বড় সাংবাদিক হবে, একটা ভালো চাকরি করবে, তার ভাই-বোনের ছোট ছোট আবদারগুলো পূরণ করবে। কিন্তু দেখা দরিদ্র্যতার জাঁতাকলে চাপা পড়ে স্বপ্ন পূরণের চেয়ে খেয়েপড়ে বেঁচে থাকাটাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

জহির রায়হান তাঁর এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের অবস্থাও তুলে ধরেছেন। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকেরা তাদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কতটা স্বাধীন, আদৌ কি তারা তাদের মত প্রকাশ করতে পারে? নাকি যতটুকু প্রকাশের স্বাধীনতা পায় ততটুকুই প্রকাশ পায়, বাকি সবকিছু আড়ালেই থেকে যায়। এসব বিষয় লেখকের লেখার মাধ্যমে পাঠককে ভাবায়।

মাহমুদের বোন মরিয়ম ছাত্র পড়িয়ে নিজের পড়ার খরচের পাশাপাশি পরিবারকে সাহায্য করে। একসময় ভালবেসেই পরিবারের পছন্দে বিয়ে করে মনসুরকে। বিয়ের তিন মাস যেতেই অল্প বয়সে করা একটি ভুলের জন্য সম্পর্কে ভাঙনের শুরু হয়।

এভাবে ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া কাহিনীর এক পর্যায়ে একটি বরফ গলার মত শান্ত শীতল এক বৃষ্টির রাতে খসে পড়ে মাহমুদদের সেই ভাঙা বাড়ির ছাদ। সেই রাতে কি হয়েছিল মাহমুদের বাবা-মা আর ভাই-বোনের সাথে? কি এমন হতো যদি মাহমুদের জীবনে সেই শীতল রাতটাই না আসতো। এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়তে হবে উপন্যাসটি।

শিক্ষার্থী, ৭৮ ব্যাচ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *