জুনায়েদ আহমেদ সহল
বাড়ি নং ৩ রোড নং ৩ ফ্লোর নং ৩ কি অদ্ভুদ এক মিল রয়েছে সংখ্যাগুলোতে তাই না? এই এই সংখ্যাগুলোকে আরো নান্দনিক গড়ে তুলেছে একটি রেস্টুরেন্ট যার নাম “থার্টি থ্রি”। আসুন তবে আপনাকে ঘুরিয়ে দেখানো যাক এই রেস্টুরেন্টে। নামের পাশাপাশি এই রেস্টুরেন্টের আরেকটি বিশেষত্ব রয়েছে, সেটি হল এটি একটি মিউজিক ক্যাফে।
সন্ধ্যা নামার পরে বেইলি রোডের সড়কে যখন বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জনদের আনাগোনা শুরু হয় ঠিক তখনই এই রেস্টুরেন্টের শুরু হয় গানের এক অসাধারণ আয়োজন। সন্ধ্যা নামার ঠিক পর পর তাদের গানের আসর শুরু হয় যেটি চলে রাত ১১ টা পর্যন্ত। ১১০ জন ধারণ ক্ষমতার এ রেস্টুরেন্টে গানের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিদেশী খাবার এর ডিশ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য তাদের চাইনিজ, থাই এবং ইন্ডিয়ান ফুড। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন আমেরিকান বার্গার এবং ইটালিয়ান পাস্তা এবং পিৎজার সমারোহ। এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের মিল্ক স্যেক থেকে শুরু করে মইটো এবং হরেক রকমের জুস রয়েছে।

বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছে বিভিন্ন রকমের খাবারের চাহিদা এবং স্বাদ অনুযায়ী বিভিন্নটি এখানে প্রচলিত, যেমন ছাত্রছাত্রী বা তরুণ-তরুণীদের কাছে এখানকার ইতালিয়ান পিৎজা এবং পাস্তা পছন্দের তালিকাতে শীর্ষ। আবার অপরদিকে দেখা যায় পরিবার পরিজন নিয়ে এসে সাধারণত এখানে মানুষ চাইনিজ ফুডটিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তাদের পুরো রেস্টুরেন্টই বিভিন্ন দেশের নামিদামি এবং খ্যাতিমান সংগীত শিল্পীদের ছবি দ্বারা এবং অসাধারণ ইন্টেরিয়র ডিজাইন দ্বারা সমৃদ্ধ। রেস্টুরেন্টে ঢুকলেই হাতের বাম পাশে চোখে পড়বে একটি বড় সঙ্গীত আয়োজনের স্টেজ যেখানে রয়েছে বিভিন্ন রকমের সঙ্গীতে বাদ্যযন্ত্র যেমন গিটার ড্রাম ইত্যাদি ইত্যাদি, এবং রেস্টুরেন্টের ডান পাশে রয়েছে বিশাল বেল রুম যেখানেই বসে একই সাথে গানের পাশাপাশি খাবার উপভোগ করা যাবে।
একদম পিছন দিকে রয়েছে তাদের কিচেন যেটি পুরোপুরি লাইফ কিচেন বললেই চলে, কারণ যখন আপনি খেতে বসবেন আপনার একপাশে গানের আয়োজন এবং এক পাশে আপনার সামনে তৈরি হবে আপনার পছন্দের খাবারটি যা আপনি স্বচক্ষে দেখতে পারবেন। রেস্টুরেন্টর খাবারদাবার গানের আয়োজন এবং পরিবেশ সবকিছু ছাড়াও আরেকটি বিশেষত্ব রয়েছে সেটি হলো তাদের সার্ভিস। এইখানে রয়েছে ২২ জন অভিজ্ঞ সেফ সহ মোট ৩৭ সার্ভিসবয়।

রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার তাজউদ্দিন সাহেবের সাথে কথা বলে জানা গেল রেস্টুরেন্টের ইতিহাস সম্পর্কে। ২০১০ সালের মার্চ মাসের ছয় তারিখ এ রেস্টুরেন্টে উদ্বোধন করা হয় এবং এর রেস্টুরেন্টের ধারণা রেস্টুরেন্ট মালিকপক্ষের মাথায় আসে যখন তারা থাইল্যান্ডে ঘুরতে গিয়েছিল এবং ঠিক এরকম আরেকটা রেস্টুরেন্টে তারা খেতে গিয়েছিলেন।
তাদের আরেকটি শাখা রয়েছে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোডে, তবে সেটির সাথে সেই রোড বাড়ি নাম্বার অথবা ফ্লোর এর কোন মিল নেই। তারা আরেকটি শাখা করতে যাচ্ছে বনশ্রীতে এবং তাদের ইচ্ছে আছে আস্তে আস্তে তারা পুরো রাজধানী শহরে বৃদ্ধি করবে তাদের আরো কিছু শাখা। ম্যানেজারের সাথে আরো কথা বলে জানা গেল তারা কাস্টমারের চাহিদা ভিত্তিক অনুযায়ী তাদের রেস্টুরেন্টের লোকেশন বাছাই করে। রেস্টুরেন্টের যাবতীয় সব খরচ যেমন বাজার সদাই থেকে শুরু করে ইলেকট্রিসিটি বিল এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া থেকে শুরু করে ফ্লোরের ভাড়া সবকিছু দিয়ে বাৎসরিক রেভিনিউ থাকে পুরো অর্থের ২৮%।
তবে সবকিছু মিলিয়ে নির্দ্বিধায় বলা যায় এই ব্যস্ততম শহরের একটি বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে এর রেস্টুরেন্টটি সকলের মন জয় করে নিবে কারণ যেখানে খাবার-দাবারের সাথে কিছুটা গানের আসর জমানো যায় সেখানে কেইবা যেতে চাবেনা। রেস্টুরেন্টের বিষয় আরও একটি বিষয় রয়েছে যা অনেকেরই জানা নেই সেটি হলো আমাদের সকলের প্রিয় সৌলস ব্যান্ডের বিখ্যাত গায়ক আইয়ুব বাচ্চু স্যারের একটি পছন্দের জায়গা, যেখানে বসে তিনি তার অনেকটি সময় কাটিয়েছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেছেন। প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু তো আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন তবে রেখে গিয়েছেন তার কিছু স্মৃতি এবং সেই স্মৃতি এখনো রয়ে গেছে “থার্টি 3” রেস্টুরেন্টে।
