সম্ভাবনার সার্ফিং

খেলা

নাজিফা খাতুন:

গর্জন তুলে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। বাতাসের বেগ ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো। তাপমাত্রায় ছাড়িয়ে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু ভয়ের বদলে সমুদ্র জয়ের নেশা চেপে বসে সার্ফারদের। শুরু ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ আর দুঃসাহসী এক রোমাঞ্চের। প্রতি মুহূর্তে আচমকা আসা ঢেউগুলোকে পাড়ি দিয়ে যেতে হবে বহু দূর। এভাবেই বহু দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কক্সবাজারের সার্ফাররা। তাঁদের কাছে সার্ফিং এখন অপার সম্ভাবনার নাম।

কক্সবাজারে এ বছরের এপ্রিলে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ব্র্যাক চিকেন প্রথম জাতীয় সার্ফিং’। সেখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল সার্ফিং দ্য নেশনসের ২৩ সদস্যের দল। প্রতিষ্ঠানটির টিম লিডার জ্যাক ট্রেইন বাংলাদেশে সার্ফিং সম্ভাবনা নিয়ে জানালেন, ‘আমি পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, আফ্রিকাসহ অনেক দেশেই গেছি। তবে তাদের চেয়ে সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি মনে হয়েছে। সার্ফিংয়ের মাধ্যমে কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকদের আরো বেশি করে আকর্ষণ করা সম্ভব।’

কক্সবাজার শহরের গোড়াপত্তন করেছিলেন ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স। আর প্রায় ৭০ বছর পর কক্সবাজার সার্ফিংয়ের জনক বলা চলে মার্কিন টম বাওয়ার্ডকে। ১৯৯৬ সালের কোনো একসময় কক্সবাজার সাগরে সার্ফিং বোট নিয়ে তরঙ্গ দোলায় দুলছিল টম বাওয়ার্ডের নেতৃত্বে একদল অসি-মার্কিন সার্ফার। শখের বশে বিদেশি সার্ফারদের এই ঢেউয়ের নৃত্য খুব কাছ থেকে পরখ করছিলেন বাংলাদেশের আজকের সার্ফিং আইকন জাফর আলম। সার্ফিংয়ে আগ্রহ জানালে টম নিজের ছেলের মতো জাফরকে বোট দিয়ে শেখালেন কলাকৌশল। এভাবেই জাফর নিজেকে তৈরি করলেন কক্সবাজার তথা বাংলাদেশের প্রথম সার্ফার হিসেবে। ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ বাহারছড়ার ফররুখ আহমদের ছোট ছেলে জাফর তাঁর তিন ভাইপো শাহাদাত, ফাহাদ, রাসেদ আর ভাতিজি গোলাপ শাহ, বিপাশা, নাহিদাদের নিয়ে গড়ে তুললেন কক্সবাজার সার্ফিং ক্লাব। এতেও সহযোগিতার হাত বাড়ান যুক্তরাষ্ট্রের টম বাওয়ার্ড। দীর্ঘ দেড় যুগের পথ পরিক্রমায় পর্যটন শহর কক্সবাজারের দক্ষিণ বাহারছড়া এখন বাংলাদেশের একমাত্র ‘সার্ফিং ভিলেজের’ খেতাব পেয়েছে। এই গ্রামের ৩০টি পরিবারের প্রায় শতাধিক ছেলেমেয়ে নিজেদের সার্ফার পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ভয়ংকর সামুদ্রিক প্রাণীর ঝুঁকি নেই এখানে। ঢেউ একটু কম হলেও সার্ফিং করার জন্য আদর্শ। বিশ্বের দীর্ঘতম এই বিচের কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী ও শৈবাল পয়েন্টে তাই দিনভর সার্ফাররা সার্ফিং বোট নিয়ে ঢেউয়ের জলকেলিতে মত্ত থাকছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *