মশার বাড়াবাড়ি, কি করছে মশক নিবারণী দফতর?

বাংলাদেশ

ছাইফুল ইসলাম মাছুম:
মশার কথা উঠলেই সবার আগে আলোচনায় আসে সিটি কর্পোরেশনের নাম। কিন্তু জানে কি খোদ রাজধানীতে মশক নিবারণী দফতর নামে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে? দফতরের কর্মকর্ত কর্মচারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। দফতরের কাঠামো অনুসারে ৩৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলে আছেন ২৭৭ জন। তবে, মশা নিধনে তাদের খুব বেশি তৎপরতা নেই।

রাজধানীতে মশা মারতে মশক নিবারণী দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দুভাবে মশক নিধন করা হয়। সকালবেলা ড্রেনে ওষুধ ছিটিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংস ও সন্ধ্যার আগে ফগ মেশিন দিয়ে ধোঁয়া তৈরি করে উড়ন্ত মশা নিধন।

সরেজমিন পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উল্টো পাশে প্রতিষ্ঠানটির অফিসে গিয়ে কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। অফিসের দু-একটি কক্ষ খোলা থাকলেও, অধিকাংশ তালা মারা। দোতলা ভবনের আশপাশে অনেক খালি ড্রাম পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব ড্রামে মশা মারার ওষুধ থাকে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী। দফতরের হিসাবরক্ষক জামাল উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশা মারার জন্য যে ওষুধ কিনে, সেগুলো এখানে মওজুদ রাখা হয়। ব্যবহার শেষে ড্রামগুলো এখানে রাখা হয়। তারাই পরে খালি ড্রামগুলো সরিয়ে নেয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মশা নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটির তেমন কোনো কর্মসূচি বা গবেষণা কার্যক্রম নেই। বর্তমানে প্রায় ১১৯টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মীদের অধিকাংশই দফতরের অধীনে কাজ করেন না, দুই সিটি করপোরেশনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। তবে সিটি করপোরেশনের অধীনে কাজ করলেও কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে এ দফতর।

দফতরের সহকারী পরিচালক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব অ. ন. ম ফয়জুল হক টেলিফোনে জানান, ‘দফতরের প্রশাসনিক কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা দেওয়া ছাড়া, দফতরের কর্মসূচি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। দফতরের কাজ নিয়ে বলতে পারবেন দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।’ তবে একাধিকবার কল করেও দুই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ১৯৪৮ সালে যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মশক নিবারণী দফতরটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ ছিল সহকারী পরিচালক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন চিকিৎসক এ পদে দায়িত্ব পালন করতেন। পরে ১৯৮০ সালে দফতরটিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *