করোনা ঝুঁকি নিয়েই ভোট চলছে যুক্তরাষ্ট্রে

আন্তর্জাতিক

তানভির আহমেদ:
করোনায় প্রায় দুই লাখ ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যুর মধ্যেই উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা নিয়ে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। যদিও এবার রেকর্ড সংখ্যক ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। প্রায় ১০ কোটি আগাম ভোট পড়েছে যা, ২০১৬ সালে পড়া মোট ভোটের দুই তৃতীয়াংশ।

রেকর্ড সংখ্যক ভোটার আগাম ভোট দিলেও পরও ভোটারদের লম্বা লাইন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে নির্বাচনী গ্রুপগুলো বলছ, করোনাভাইরাসের মহামারি এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এই বছর ভোটদান প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দ্বিধা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। স্যানিটাইজার ব্যবহারের কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে তারা। এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিডিসি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জয়ের লক্ষ্যে মাসব্যাপী বিভিন্ন রাজ্যে প্রচারণা চালিয়েছেন রিপাবলিক দলের প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রতিন্দদ্বী প্রার্থী ডেমোক্রেটিক দলের জো বাইডেন।

প্রায় অনুমেয় যে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে করোনা ভাইরাস। এ করোনা ভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতে লকডাউন দিলেও পরে তুলে নেন।

করোনাভাইরাস জন্য ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপে জনগন খুশি না। এক জরিপে দেখা গেছে তার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের নাজেহাল অবস্থা। প্রচারণার সময়ও তিনি করোনা ভাইরাসকে প্রাধান্য দেননি, জনসমাগম করে প্রচারণা করেছে।

এদিকে, বাইডেন শুরু থেকেই করোনা নিয়ে ছিলেন সতর্ক, তিনি নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। প্রায় সবগুলো জনমত জরিপেও ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী জো- বাইডেন এগিয়ে আছেন। যদিও ২০১৬ সালে নির্বাচনে আগে জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন হিলারী ক্লিন্টন। তারপরও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে যে অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিবেচনা করা হয় সে গুলোর মধ্যে এখনকার জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে আছেন জর্জিয়া, আইওয়া এবং টেক্সাসে। কিন্তু এখানে ব্যবধান খুব সামান্য।

জো বাইডেন এগিয়ে আছেন অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, পেনসালভেনিয়া, ভার্জিনিয়া এবং উইসকন্সিনে।

বলা হয়ে থাকে ব্যাটলগ্রাউন্ডে হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে যে জয়ী হয় সেই পাবে হোয়াইট হাউজের চাবি।

সূত্র: বিবিসি, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *