খাদিজা আক্তার মুন্নি
গ্রীষ্মকালের এই সময়ে সূর্যের প্রচণ্ড খরতাপে জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে। অসহ্য গরমের মধ্যেও দৈনন্দিন কাজের জন্য নিয়মিত বাইরে বের হতেই হয়। আর গরমের এই সময়টাতে রোদের তীব্রতা সরাসরি প্রভাব পড়ে চুলে। ছেলে কিংবা মেয়ে সকলের পছন্দ চুল।
এ সময়ে চুলের যত্নে কী কী করা প্রয়োজন আসুন জেনে নেয়া যাক:
১. গরমের দিনে চুলের চুলের গোড়া ঘেমে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই বাইরে থেকে ঘরে ফিরে পাখার ঠান্ডা বাতাসে চুলটা শুকিয়ে নিন। কোনোভাবেই ঘামে ভেজা চুল বেঁধে রাখা যাবে না। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল পড়া বাড়ে।
২. গরমের দিনে প্রচুর ঘামের ফলে মাথার ত্বকেও প্রচুর ঘাম জমে। ফলে ধুলাবালি এবং ময়লা চুলের ত্বকে জমে নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চুলের ত্বককে রক্ষা করতে ভালো মানের পরিষ্কারক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। ধুলাবালু ও ঘামের কারণে চুল নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে প্রয়োজনে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. গরমের তাপ এবং স্যাঁতসেঁতে ভাব চুলের গঠন এবং বৃদ্ধির ক্ষতিসাধন করে থাকে। তাছাড়া চুল শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং চুলে জমাট বেঁধে যায়। কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে চুল প্রাণ ফিরে পায় এবং প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখে।
৪. চুল ডিপ কন্ডিশনিং করতে কন্ডিশনারের বদলে ঘরোয়া হেয়ার প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। ডিম, দই আর মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক শুকনো বিবর্ণ চুলের জন্য বেশ উপকারী।
৫. চুলের যত্নে উষ্ণ নারকেল তেল দারুন উপকারী। এক কাপ পরিমাণ উষ্ণ নারকেল তেল আপনার চুল এবং চুলের ত্বকে ভালোমতো মালিশ করুন। তারপর উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা চুল মুড়িয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুল হয়ে উঠবে নরম এবং পুষ্টিযুক্ত।
৬. গরমে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরার রস, মেথি গুঁড়া ও ত্রিফলা (আমলকী, হরিতকি ও বহেরা ভেজানো পানি) একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পরিষ্কার করে ফেলুন। এতে চুল পড়া কমতে সাহায্য করবে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
৭. গরমে চুলে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো। প্রাকৃতিকভাবে চুলের যত্ন করার চেষ্টা করলে এই গরমে চুল থাকবে সুস্থ ও ঝলমলে।
৮. চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস পরিহার করুন।
