মিশু চৌধুরী ও তানভীর সিদ্দিক টিপু
উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর চরাঞ্চল দিয়্যাড়ের খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার কালাই রুটি। জনশ্রুতি আছে, ওই অঞ্চলের কৃষকেরা এই রুটি খেয়েই সারাদিন মাঠে কাজ করেন, ফসল ফলান। মাসকালাইয়ের সাথে চালের আটার মিশ্রণে তৈরি হয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট আর মিনারেল সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি। তবে এই রুটি বানাতে ব্যবহার করা হয় না কোনো ব্যালনা বা পিড়া। শুধু হাতের জাদুতে গোল হয় এই রুটি।
দিনে দিনে উত্তরের এই কালাই রুটির স্বাদ সুনাম ছড়িয়েছে সারা দেশেই। তাই, অনেকেই রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়াতে গেলে এই রুটি না খেয়ে ফিরতে চান না। কারণ, সব সম্ভবের এই ঢাকা শহরে তো কালাই রুটি নেই!
তবে এখন আর ‘নেই’ বলা উচিত হবে না। এই কালাই রুটির সাথে ঢাকাবাসীকে পরিচয় করিয়ে দিতে এগিয়ে এসেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে জামিল উর রহমান। জামিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ থেকে পড়ালেখা শেষ করেছেন। কাজ করেছেন কয়েকটি গণমাধ্যমে। সাংবাদিকতা করার সময় খাবার নিয়ে কাজ করেছেন বেশ কিছু সময়। সেখান থেকেই কালাই রুটিকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্যোগী হন তিনি।
কালাই রুটির জন্মস্থান সুদূর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা হয় কারিগর। সাংবাদিকতা ছেড়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেন ব্যবসায়। পরিবারের অনেকের আপত্তি থাকলেও জামিল জানতেন তিনি সফল হবেন। হয়েছেনও।

ঢাকা শহরের মানুষের কালাই রুটির স্বাদ নিতে এখন সদলবলে হাজির হচ্ছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের ‘কালাই রুটির আড্ডা’য়। অবস্থানটা সহজ করে বললে মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের গলিতে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন হয় রেস্টুরেন্টটি। এর ঠিক পাঁচ মাসের মাথায় খিলগাঁও-এ আরও একটি শাখা চালু করা হয়েছে।

জামিল বলছিলেন, ‘কালাই রুটিকে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যেই দূর দুরান্ত থেকে কালাই রুটির স্বাদ নিতে ছুটে আসছেন অনেকেই।’
করোনাকালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে খুবই সচেতন। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে যাতে খাবার পরিবেশন করা হয়, সে বিষয়ে জামিল নিজেই তদারকি করেন।
কালাই রুটির আড্ডা’র কালাই রুটির সাথে জনপ্রিয় খাবারের নাম ধনিয়া পাতা, লবণ, ঝাল আর বেগুন ভর্তা। স্বল্পমূল্যে সাথে থাকছে বেগুন ভর্তা, ধনিয়া পাতা ভর্তা, লবণ ঝাল ভর্তা, স্পেশাল বট, স্পেশাল গরুর মাংস, স্পেশাল হাঁসের মাংস, স্পেশাল আচার। যা যেকোনো খাবার প্রেমীকে আকৃষ্ট করবে। আছে শিবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর আদি চমচম মিষ্টি, আদি কালোজাম, প্যারা ও রসকদম সন্দেশ আর স্পেশাল মোড়ালি/ঝুড়ি ।
সপ্তাহে সাতদিন দুপুর ১২:৩০ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকে ‘কালাই রুটির আড্ডা’। করোনার সময়ে বাসা থেকে বের হতে না পারলেও আছে ফুড পান্ডা কিংবা পাঠাও এর মাধ্যমে ঘরে বসে অর্ডার করার সুযোগ।
