প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে বিশ্বজুড়ে নারীর প্রতি সম্মান ও সমানাধিকার জানাতে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে প্রতিবছর এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়ে আসছে। দিনটিকে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নারী দিবস নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন রিদিতা সাহা।
সারাফ আনজুম বিভা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
নারী-পুরুষ আকার ও প্রকৃতিগতভাবে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মৌলিক অধিকারের মতো মানুষের মৌলিক কিছু চাওয়া পাওয়া থাকে। সকল লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে মানুষের রয়েছে নিজস্ব পরিচিতি এবং একটা সাধারণ পরিচয়। কিন্তু সমাজ যুগ যুগ ধরে এই দুই পরিচিতির ব্যাপারেই নারীকে তাদের একটা নির্ধারিত সীমানায় বেঁধে দিয়েছে। মোট কথা, অদৃশ্যভাবে অন্যের পরিচিয়ে তুমি পরিচিতা। সময়ের সাথে সাথে এই আধিপত্যবাদ রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, দৃষ্টিবিভ্রম বা আইওয়াশের মতো অনেকটা। আমার মনে হয়, এ ব্যাপারে সর্বাগ্রে প্রয়োজন নারীর সচেতনতা। দিনশেষে সংগ্রাম মানুষের নিজের, অধিকার মানুষের নিজের। নিজের অধিকারের জন্যও যদি সাহায্য চাইতে হয়, সেটাও নিজেকে চিন্তা করতে হয়! অতএব নারীর সর্ব প্রকারের স্বয়ংসম্পূর্ণতা, স্বনির্ভরতা এখন সময়ের দাবী।
আনিকা আনজুম নাফিসা, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রতিবছর দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। নারী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমাজের সকল নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। বছরে একবার সভা মিছিল করে নারী দিবস পালন বা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারী সম্পর্কে না জানিয়ে প্রতিনিয়ত নারীদের জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং তাদের অধিকার দেওয়ার মাধ্যমে যথাযথ সম্মান করতে হবে। প্রতিটি নারী দিবসে এমন একটি করে নতুন প্রতিজ্ঞা নিতে হবে যাতে নারীদের উন্নতি হয়। তাহলেই নারী দিবসের যথাযথ বিষয়টি উপলব্ধি করা যাবে।
মৌমিতা সুলতানা মীম, রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়
আমি নারী, আমি সব পারি। পিছুটান বাদ দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি। ধৈর্য ধরে সকল বাধা অতিক্রম করতে পারি। প্রতিটি শুভ জয় এর আশায় সকল কঠোর পরীক্ষা দিতে পারি। আমি নারী, আমি সব পারি ।
তিলোত্তমা সাহা ত্রিধা, চৌমুহনী সরকারি এস.এ কলেজ
একজন নারী তার গোটা জীবনে কোনও প্রত্যাশা ছাড়াই বিভিন্ন ভুমিকা পালন করে। নারী, সে তো নিজেই বুঝে উঠতে পারে না কতটা ক্ষমতার অধিকারী সে। হাজারো কথা শোনার অভিলাস। সব কিছু বুঝে নেয়ার ধৈর্য্য, বিপদে পুরুষের ঢাল। সংসার, সমাজ, দেশ একসাথে পরিচালনা করার অভিপ্রায় হল নারী।
অন্তু সমদ্দার, বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ
এক কথায় নারী দিবস নারীর স্বাধীন ব্যক্তি মানসিকতা। নারীর জায়গা বিচারে কখনো একটা নির্দিষ্ট দিনে এটা আবদ্ধ নয়। তবে বেগম রোকেয়ার সেই চাওয়ার বাইরে হিসেব করলে, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা পুরোপুরি স্বাধীন হতে পারিনি। আমরা শিক্ষিত হলেও, ভালো পর্যায়ে অবস্থান করলেও কিংবা সকল কাজে সমান দক্ষতা দেখালেও আমরা মুক্ত আকাশে উড়ার স্বাধীনতা পাইনি। এই দায়টা যে শুধু পুরুষের তা নয়। এই দায় সমাজব্যবস্থার। আর বড় সমস্যা আমাদের নারীদের। আমরা বইপড়া মুখস্থ বিদ্যায় শিক্ষিত। আমাদের দরকার সমাজের সকলের সহযোগিতা, সুশিক্ষা ও মানসিক দাসত্বের পরিবর্তন।
