ঘরে কিংবা বাইরে, নারীর সরব অংশগ্রহণ সব জায়গায়।

‘প্রত্যেক নারীর উচিত নিজের পায়ে দাঁড়ানো’

বাংলাদেশ

ঘরে কিংবা বাইরে, নারীর সরব অংশগ্রহণ সব জায়গায় কেউ ঘরের কাজেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কেউবা অনলাইনে উদ্যোক্তা হয়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে ছুটে চলেছেন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এমনই চারজন গৃহিণী এবং উদ্যোক্তা নারীর সাথে কথা বলেছেন সাজনাত ছোঁয়া

 

নাজিয়া বিনতে আমিন, মেকওভার বাই নাজিয়া আমিন

‘বিয়ে হয়ে গেছে, ওর আর পড়ালেখা হবে না। ও আর জীবনে কিছুই করতে পারবে না’- খুব অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় আশপাশের অনেকের এমন কথা শুনেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী নাজিয়া বিনতে আমিন। সবাইকে মিথ্যা প্রমাণ করে সেই সদ্য বিবাহিত মেয়েটিই এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেলেন, পেলেন বৃত্তিও। আশেপাশের মানুষের কথাগুলো থেকেই নিজের কাজ দিয়ে ‘সবাইকে দেখিয়ে দেওয়ার’ জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করলেন।

সেই গল্প শোনাতেই বলছিলেন, ‘আমার পছন্দের কাজের মধ্যে ছিল ‘মেকওভার’ বা পার্লারের কাজ। মেকআপ নিয়ে কাজ করতেই আমার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা। শুরু করলাম ‘মেকওভার বাই নাজিয়া আমিন’ নামে একটি অনলাইন পেজের মাধ্যমে।’ নাজিয়ার মতে, একজন নারীর সফলতার পিছনে তার পরিবার ও আপনজনদের সহায়তা থাকা জরুরি।

নাজিয়া জানান, ‘আমি ভাগ্যবতী যে, আমার বাবা-মা, স্বামী, শ্বশুরবাড়ীর সবার থেকেই সবসময় খুব বেশিই অনুপ্রেরনা পেয়েছি। আর সবচেয়ে বেশি পাশে পেয়েছি আমার মা এবং স্বামীকে। একজন ছোট ও সাধারণ উদ্যোক্তা হলেও আমি নিজে কিছু করতে পারছি, এটিই আমার আনন্দের বিষয়।’ সকল নারীর কাছে তার চাওয়া, যেন প্রত্যেকে আত্মবিশ্বাসী ও কাজের ক্ষেত্রে দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হয়।

নুসরাত জাহান মিম, ব্যাক টু চাইল্ডহুড- এ শপ অব কিউটনেস

‘ব্যাক টু চাইল্ডহুড- এ শপ অব কিউটনেস’ নামক অনলাইন বিজনেস পেজের সত্ত্বাধিকারী নুসরাত জাহান মিম। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন আরও ১২জন। মাসে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার ক্রেতা, পরিবারের দুই সন্তান –সবকিছু মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটে তার। তার মতে, ‘একজন নারীর জন্য প্রতিটা দিনই এক একটি যুদ্ধের সামিল, যুদ্ধ আরো বহুগুণ বড় হয় যখন নারীর পাশে ‘উদ্যোক্তা’ যুক্ত হয়৷ ঘরে-বাইরে, সমান তালে নিজেকে বার বার প্রমাণ করার যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়।’ তবে নিজেকে একজন কর্মজীবি নারী, নারী উদ্যোক্তা কিংবা নারী ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতি পদেপদে তিনি পুরুষের সক্রিয় ভূমিকাও উপলব্ধি করেছেন। মিম বলেন, ‘আমাকে আজ সবাই একজন সফল নারী উদ্যোক্তা ভেবে থাকলে এর একটা সিংহভাগ অবদান আমার স্বামীর।’

আফরোজা চায়না, গৃহিনী

ভোর পাঁচটা থেকে শুরু করে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন গৃহিণী আফরোজা চায়না। তার মতে, একজন গৃহিনী হিসেবে তার দৈনন্দিন জীবন খুব আরাম-আয়েশে কাটে তা নয়। একজন গৃহিনীকে ঘরেবাইরে দশদিকে নজর রেখে চলতে হয়, যা একজন কর্মজীবি নারীর কাজের থেকে কোনো অংশে কম নয়। তবে, সেই কাজের সঠিক মূল্যায়ন বেশিরভাগ সময়ই তারা পান না, এমন অভিযোগ আছে। হাসিমুখে এত পরিশ্রমের পরও পরিবারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না সবসময়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই পরিবর্তনটা খুব প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। আফরোজা বলেন, ‘ভাবতেই ভালো লাগে যে আমাদের নারীদের জন্য একটি আলাদা দিবস পালিত হয়। দায়িত্ববান ও কর্মঠ প্রত্যেক নারীর জন্য তার প্রত্যেকটি দিনই নারী দিবসের মতো সুন্দরভাবে কাটুক এটাই আমার  প্রত্যাশা।’

মাঈশা তাবাসসুম ঐশী, মাঈশা’স কেক

খুব অল্প বয়স থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইতেন তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী মাঈশা তাবাসসুম ঐশী। তিনি কারো ওপর নির্ভরশীল থাকা পছন্দ করতেন না, তাই হতে চেয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা। করোনা মহামারীর ঘরবন্দী অবস্থায় তিনি রান্না শেখায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সবচেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে ‘কেক বেকিং’। তারপর একদিন অনলাইনে ‘মাঈশা’স  কেক’ নামে পেজ খোলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি এখান থেকেই তার নতুন এক আয়ের শুরু। প্রথমে ভেবেছিলেন কেক বিক্রি হবে না, তিনি হয়তো পারবেন না। তবুও হাল ছাড়েননি। একসময় সবাই তার কেক পছন্দ করতে শুরু করলো, যা তাকে আরো উৎসাহিত করেছিলো। বর্তমানে তার এই ক্ষুদ্র ব্যবসাটি বেশ ভালো চলছে। ঐশী বলেন, ‘আমার একেকজন ক্রেতা আমার কাছে আবেগ। প্রত্যেক নারীর উচিত নিজের পায়ে দাঁড়ানো। প্রতিটি নারীই যেন মন খুলে বাঁচতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *