সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি:
আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে সক্রিয় হবার আহবান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের উচ্ছেদ আর পরিবেশ প্রতিবেশ নষ্টের যে আয়োজন চলছে তা বন্ধ করতে হবে।
‘চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল ও পর্যটন স্থাপনা নির্মান’ বিষয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর আহবায়ক ফজলে হোসেন বাদশা, এমপি। আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলেন গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ।
পাঁচতারকা হোটল স্থাপন প্রক্রিয়াকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের প্রধান উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশেষ অঞ্চল চুক্তি ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এটা হতে পারে না। আইন ভঙ্গ করে কোনো জাতিকে উচ্ছেদ করা যাবে না।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমটিরি সাবেক সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী, এমপি বলেন, আদিবাসীদর তাদের নিজের জায়গায় রেখেই, কোন ধরণের উচ্ছেদ না করে, পর্যটনের পরিকল্পনা করতে হবে।
আলোচনায় সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রশাসন, মন্ত্রণালয় এবং সরকার আইনের উর্ধ্বে নয়, তাই আইনানুযায়ী কাজ করতে হবে।
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর আহবায়ক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সংবিধান, পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি, শান্তিচুক্তি সকল কিছুই লংঘিত হচ্ছে, তাই সবাইকে এর বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে হবে।
ককাসের টেকনোক্রেট সদস্য প্রফেসর ড. মেসবাহ কামাল বলেন, ‘জীবন-জীবিকার উপর যখন আঘাত আসে, তখন তার মাধ্যমে শান্তিচুক্তিকেই আঘাত হানা হচ্ছে। তাই রুখে দাঁড়ানো দরকার।’
সংসদীয় ককাসের উপদেষ্টা এ্যাড. রানা দাস বলেন, এখনই একটি প্রতিনিধি দলের ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে জনমত গঠন করে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবগত করা দরকার।
আদিবাসী লেখক ও গবেষক সঞ্জীব দ্রং বলেন, বঙ্গালি জাতির মহত্ব বা বিশালত্ব ম্রোদের রক্ষার মধ্য দিয়েই প্রমানিত হবে। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ভাল থাকলেই বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে উঠবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে.এস.মং বলেন, ‘ম্রো আদিবাসীরা সমতলে থাকে না, তারা পাহাড়ে বসবাস করেন এবং চিম্বুক পাহাড়ের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই লড়াই করছে।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ-ফেরদৌসী।
এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই জিততে হবে
এ লড়াই মরণ জয়ী করতে হবে রে
এ লড়াই ভয় করে না মানিক সেনা
এ লড়াই প্রলোভনে যায় না কেনা
এ লড়াই পিছিয়ে থাকা মানুষকে আজ পথ দেখাবে”
–গানটির মধ্য দিয়ে জান্নাত-ই-ফেরদৌসি আদিবাসীদের প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
