সাজনাত ছোঁয়া
‘মা’ এক অক্ষরে শব্দটি গঠিত হলেও এর ব্যাপকতা সাগরের চেয়েও বিশাল। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সম্মানীয় মানুষ তিনি। ইতিহাস বলছে, ১৯০৭ সালের ১২ মে প্রথমবার আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরে ‘মাদার্স ডে’ বা ‘মা দিবস’ পালিত হয়।
প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালন করা হয় বিশ্ব মা দিবস। বিশেষ দিনটিতে, মাকে বিশেষভাবে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে পালিত হয়ে আসছে।
পেশায় গৃহিণী আফরোজা চায়না বলেন, ‘মা হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মায়েদের ভালোবাসার জন্য কোনো দিবস দরকার হয় না। তবে বর্তমানে আমরা চারপাশ থেকে, খবরের কাগজে জানা যায় কিছু সন্তানেরা পিতামাতাকে ভরণপোষণ দিচ্ছেনা। কেউ বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছে। কেউ আবার বস্তা-বন্দি করে বৃদ্ধ মা কে রাতের অন্ধকারে রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসছে। মা দিবসকে বর্তমানে ছেলেমেয়েরা বিশেষভাবে পালন করে আসছে। এটা খুবই আনন্দের। তবে সকল সন্তানদের প্রতি তার চাওয়া থাকবে, মায়ের প্রতি এই বিশেষ দিনটিতে সন্তানরা যে ভালোবাসাটুকু প্রদর্শন করছে, প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তে যেন একইভাবে সেই ভালোবাসাটা বজায় থাকে।’
রুবিয়া খান পেশায় গৃহিণী বলেন, ‘যখন জীবনে প্রথম মা হলাম সেই অনুভূতিটা অনেক সুন্দর ছিল। মা হওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছি। তারা জীবনে অনেক বড় হবে এবং একজন আদর্শ মানুষ হবে। আমার সন্তানরা এখনও তাদের এবং আমার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি কারণ তারা এখনও ছোট। তারা যেদিন সেই লক্ষ্যে পৌঁছাবে সেদিন নিজেকে আদর্শ মা মনে করবো। আমি মনে করি, একজন সন্তান যখন মানুষের মতো মানুষ হবে তখনই একজন মা তার পরিপূর্ণ মা হওয়ার রূপ পায়। আমার মাও একজন আদর্শ মা ছিলেন। আমি চাই সকল মায়ের মনের আশা যেন পূরণ হয়।’
মা হলেন এমন একজন মানুষ যার কাছে আমরা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি নিরাপদে থাকি। একজন মা হিসেবে এমনটিই মনে করেন শিক্ষিকা তাহমিনা লিথি। তিনি বলেন, ‘মা কে ভালোবাসার জন্য আলাদা করে একটা দিন পালন করার প্রয়োজন হয় না। একজন মায়ের কাছে সন্তানদের নিয়ে কাটানো প্রতিটি দিনই হয় ‘মা দিবস’।’
বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশ ওই উৎসব পালন করে থাকে। পৃথিবীর সব মায়েরাই বিশ্ব মা দিবসে সুখে থাকুক। সন্তান হিসেবে এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।
‘প্রতিবছর এই দিনটি আসলে মনে হয় কতটা সময় পার করে ফেলেছি জীবনে। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া, মা দিবসটি মনে করিয়ে দেওয়ার মত সন্তান তিনি আমাকে দিয়েছেন। তেমনি আমিও আগামীকাল আমার মাকে কুরিয়ারে একটা শাড়ি পাঠিয়ে দিব। আমার মতে, একজন মায়ের তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বের চাকরি সারাজীবনের।’ আর এটাই একজন মায়ের জীবনে বড় পাওয়া হিসেবে মনে করেন গৃহিণী মাহমুদা।
