জলাধারগুলো কি সবুজ শক্তি তৈরি করতে পারে?

আন্তর্জাতিক

মিশু চৌধুরী:
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে বৃষ্টি! এ যে কখন আসবে আর কখন চলে যাবে তা অনুমান করা কষ্টসাধ্য। ওয়েলসে বৃষ্টির চেয়ে বেশি অনুমানযোগ্য যেন অন্য সবকিছুই। বিষয়টি বেশি খাটে স্নোডোনিয়া এবং পোভিসের অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে। এ দুই অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশের জলাধারগুলোতে জলের জোগান দেয় বৃষ্টি। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন আমরা ধূসর মেঘ থেকে প্রায়ই নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করি না, যে মেঘ প্রায়শই আকাশে অশুভভাবে ঘুরে বেড়ায়?

৫১ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ এন্ড্রু ফুলম্যান কার্বন নিঃসরণের পক্ষে তাঁর যুক্তি দেন। তিনি চান জলাশয়গুলোকে আরও ব্যবহারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য একটি কমিশন। বলেন, ‘ওয়েলসে ১০০ এর মতো জলাশয় করার অবকাঠামো রয়েছে। অন্য জায়গায়ও রয়েছে। ছোটবড় মিলিয়ে আমরা ইংল্যান্ডের অর্ধেক পানি সরবরাহ করি। ফলে আসুন,আমরা এর কিছু ব্যবহার করি’।

মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, স্নোডোনিয়া এবং পাভিসের অঞ্চলগুলোতে ভালো বৃষ্টি হয়। স্কটিশ পার্বত্য অঞ্চলে এবং হ্রদসমৃদ্ধ জেলাগুলোতে বছরে চার মিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়। মি. ফুলম্যান বিশ্বাস করেন যে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জল রপ্তানি করাও সম্ভব, জল ভিত্তিক শক্তি তো বটেই। ওয়েলসে বর্তমানে ৩৬৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে, যা দেশের চাহিদার ২ শতাংশ মেটায়।

এলান উপত্যকার কিছু জলাশয় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন করে। আবার বেশির ভাগ ছোট উদ্যোগ, যেমন কৃষকেরা তাদের জমি দিয়ে সাহায্য করে। এগুলোর জন্য একটি অনুদান প্রকল্প এই মাসে শেষ হয়। উত্তর ওয়েলস উপকূলে অনেক নবায়নযোগ্য কেন্দ্র রয়েছে, যার আশে পাশে রয়েছে ৩৪ লাখ বাড়িঘর। পেলব্রোকশায়ার থেকে প্রায় ৪৫ কিমি দূরে সেল্টিক সাগরে একটি ভাসমান টারবাইন বসানোর পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

স্বোয়ানাশিতে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ের সমান জলোচ্ছ্বাসও অনুসন্ধান করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্য সরকার রাজি না থাকায় এই পরিকল্পনা আর এগোয়নি। কিছু বিতর্কিত প্রস্তাবও রয়েছে, যেমন অ্যাংলেসে পার্ক সোলার ট্রাফলওয়াল ডেভলপমেন্ট, যা সুপারমার্কেট জায়ান্ট টেসকো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

মি. ফুলম্যান বিশ্বাস করেন যে জলাধারগুলো বিকল্প হতে পারে। ইতিমধ্যে অবকাঠামো তৈরি হওয়া জায়গাগুলোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, যে কোনো জলবিদ্যুৎকেন্দ্র গ্রামাঞ্চলেও করা যেতে পারে,যদি তা প্রকৃতির ওপর প্রভাব না ফেলে। আপনাকে তখন সেখানে বড় (বাতাস) টারবাইন স্থাপন করতে হবে। ওয়েলসের ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এখানে ‘সারাক্ষণ বৃষ্টিপাত’ হয়, যা ‘শক্তির অন্তহীন সরবরাহ’ তৈরি করে। এই ওয়েলস প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন লিটার পানি রপ্তানি করে।

উদাহরণ স্বরূপ, ইলান উপত্যকার জলাশয় থেকে সেভারন ট্রেন্টের জল বেশির ভাগ বার্মিংহামের গ্রাহকদের কাছে যায়। ১০০ বছর ধরে তা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও ওয়েলসের কিছু জলাধারের ঘটনা বিতর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৬৫ সালে একটি হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল সারা বিশ্বে। ৭০ জন লোককে বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। লিভারপুলের জন্য নির্মিত নতুন ট্রাইওয়ারেন জলাশয়ের জন্য কয়েক মিলিয়ন লিটার পানির নিচে পড়ে গিয়েছিল গ্রামের স্কুল। ডাকঘরও নিখোঁজ হয়েছিল। ২০০৫ সালে লিভারপুল সিটি কাউন্সিল পরে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেছিল, ‘আমরা ৪০ বছর আগে আঘাতের বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলাম যখন লিভারপুলের জলের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করার জন্য ট্রাইওয়ারেন ভ্যালি জলাশয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল’।

বিশ্লেষণ – স্টিফান ম্যাসেঞ্জার, বিবিসি ওয়েলস পরিবেশ সংবাদদাতা
দলগুলোর ইশতেহার থেকে মনে হবে এই নির্বাচনের অগ্রাধিকারের তালিকার তালিকা তৈরি করেছে পরিবেশ। ২০৫০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্মূল করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন এবং ওয়েলসের নতুন আইনি বাধ্যতামূলক লক্ষ্যগুলোও রয়েছে। এগুলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া জড়ানোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে চ্যালেঞ্জের মাত্রা। এটি কোনো আশ্চর্যের বিষয়ও নয়। অনেকে এটিকে মহামারী থেকে ‘সবুজ পুনরুদ্ধার’ সুরক্ষার সুযোগ হিসেবেও দেখবেন।

বিবিসি থেকে অনূদিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *