সাজনাত ছোঁয়া
২০২০ সালের করোনার সময়ে, কর্মহীন, অসহায় মানুষদের জন্য কিছু একটা করবেন ভাবছিলেন সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাকিব। বন্ধুদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। সাড়া দেন রাকিব আহমেদ ও তুয়াম্মুম কবির। তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল, করোনার সময়ে মানুষকে একবেলা খাওয়ানো বা ইফতার করানো।
ইমতিয়াজ রাকিব জানান, শুরুতে অর্থ সংগ্রহ করা যাচ্ছিল না কোনভাবেই। তাই কাজটা বন্ধ রাখতে হয় কিছুদিন। তখন এই অর্থ সংগ্রহে সিংহভাগ ভূমিকা রেখেছিলেন তুয়াম্মুম কবির।

রাকিব আহমেদ জানান, তাদের শুরুটা হয়েছিল কাছের কিছু বন্ধুদের মধ্যে আইডিয়া শেয়ার করার মাধ্যমে। তাদের বন্ধু মহলের অধিকাংশ,
নিয়েই তাদের টিমের সদস্য হয়েছিল। এখন ২০জনের অধিক সদস্য কাজ করে থাকে। মূলত, নাখালপাড়া, মহাখালি ও বিজয়সরণী এসব এলাকায় যান তারা। সদস্যরা ৩টি ধাপে ইফতার বিতরণের কাজটি করে থাকেন। কোনো এলাকায় মসজিদে যারা এতেকাফে বসেন , এতিম শিশু ও হাফেজ এছাড়াও ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে রিকশাওয়ালা, রাস্তার পাশের অসহায় মানুষ ও যাদের দেখে মনে হয় সত্যিই তাদের প্রয়োজন তাদেরকেই ইফতার বিতরণ করা হয়। ইফতারে থাকে, চিকেন বিরিয়ানী,সালাদ, খেঁজুর আর পানি।
২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কাজটি করতে গিয়ে প্রায়ই নানারকম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হতে হয়েছে, এখনো হচ্ছে । কখনো এলাকা নিয়ে সমস্যা তো কখনো কতজনকে খাবার বিতরণ করা হবে সেটি নিয়ে, কখনো তাদের কাজগুলো ২টি পৃথক দলের মধ্যে ভাগ করে দিতে গিয়ে, এছাড়াও এবছর বাজারে সবকিছুর চড়া দাম , রোজা রেখে প্রচন্ড গরমে কাজ করতে হয়। অনেক সময় যথাযথ অর্থ সংগ্রহে ঘাটতি রয়ে যায়। তখন প্রয়োজনে তাদের নিজ পকেট থেকে কিছু অর্থ যোগ করতে হয়। ইফতার রান্নার কাজে তাদের আপনজনরাই জড়িত যারা, অনেকসময় অর্থের ঘাটতি হলেও নিজেরাই আরো অর্থ যোগ করে তার ব্যবস্থা করেন। রোজা রেখে, তাদের ইফতার বিতরণে আলাদা দুইভাগে সদস্যরা কাজ করেন।

তুয়াম্মুম কবির জানান, তাদের দলের বাকিদের থেকে বয়সে তিনি অনেক ছোট। বাকি সদস্যরা যেমন শারীরিক পরিশ্রম করেন ইফতার গোছানো ও বিতরণের মাধ্যমে। আর তিনি মানসিক পরিশ্রম করেন, অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক ও পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এছাড়াও ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কাজটি করে থাকেন। যে কাজটি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয় তার কাছে। তারপরও বিগত ৩ বছর ধরেই এর সাথে তিনি সরাসরি যুক্ত রয়েছেন ভালো কাজ করার আত্মতৃপ্তির জন্যে। তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল গতবছর, এক লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল।
এই উদ্যোগটিতে বর্তমানে আরো যুক্ত আছেন, রকি, সানজিদ, নিরব, জয় দাস, শুভ, মাহফুজ, মন্ডল ও আরো অনেক সেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থীরা।
তাদের কাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তুয়াম্মুম জানান, ‘চেষ্টা করবো ভবিষ্যতেও কাজটির সাথে যুক্ত থাকার। আমাদের এই অক্লান্ত পরিশ্রমে যদি কিছু মানুষকেও একবেলা ইফতার করাতে পারি এটাই আমাদের কাছে সার্থকতা। মানুষের টাকায় মানুষের জন্য কাজটি সুন্দর ভাবে করতে পারলে আমরা আমাদের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতে পারব।’

এবছর আশানুরুপ অর্থ সংগ্রহ করতে না পারলেও, কাজটির ধারাবাহিকতায় , এবছর ৬০০ প্যাকেট বিরিয়ানী, খেঁজুর ও পানি বিতরণ করতে পেরেছেন। তুয়াম্মুম , তোকি আহমেদ , বিপ্র মৈত্র ৩ জন মিলে ফার্মগেট, রামপুরা এবং বনশ্রী এলাকায় বিতরণ করেছেন এবং মহাখালী, নাখালপাড়া এলাকায় বিতরণ করেছেন বাকি সদস্যরা।
