পর্দায় জমলো কি অনুরাগের ‘লুডোর আসর’!

বিনোদন

মালিহা হাসান:
এবার ছোট পর্দায় লুডোর আসর বসালেন বলিউডের আলোচিত নির্মাতা আনুরাগ বসু। তারকাবহুল ছবিতে চরিত্রের কথা মাথায় রেখে ব্যালেন্সিং চিত্রনাট্য অনবদ্যই বলা যায়। তবে, শুরুটা, ঢিমেতালে হওয়ায় সিনেমার প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে কেউ উঠে না গেলে, বাকি সময়ে আর পারবেন না। বলা যায়, লুডোর গুটি সাজাতে একটু সময় নিয়েছেন শুরুতে। পরবর্তীর ঘটনাগুলোর ছক বাস্তব জীবনের সাথে বেশ চেনা মনে হবে হয়তো।

জনপ্রিয় ঘরোয়া খেলা লুডো’র সাথে মিল করেই ছবির নাম। এই খেলায় যেমন চারটি রঙ্গিন রংয়ের গুটির খাওয়া-রাখার মধ্যে এক ঘরে পৌঁছানোর হার-জিত ক্লাইমেক্স, তেমনি এই সিনোমাতেও।

পরিচালক অনুরাগ বসু তার ছবিতে চারটি ভিন্ন রংয়ের গুটির প্রধান চরিত্র হিসেবে নিয়েছেন সাট্টু ভাইয়া (পঙ্কজ ত্রিপাঠী), আকাশ (আদিত্য রায় কাপুর), বিট্টু (অভিষেক বচ্চন), অলোক ওরফে আলু (রাজকুমার রাও)। এমনকি সিনেম্যাটোগ্রাফার, লেখক, পরিচালক আনুরাগ বসুও এই মুভিতে সূত্রধরের জাবনিতে গল্প ও অভিনয় শুরু করেন এই প্রথমবার। ঘরানার মধ্যে মিশে যায় সাট্টু ভাইয়া (পঙ্কজ ত্রিপাঠী) একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড দিয়ে শুরু হয়। সাট্টু ভাইয়ার দুর্দান্ত গ্যাংস্টার পারফরম্যান্স চোখ ধাঁধানো। তারপর যেন সমান্তরাল গল্প এবং উন্মেচিত হতে থাকে চরিত্রগুলি, কিছু ভিন্ন পরিস্থিতিও।

আকাশ (আদিত্য রায় কাপুর) এবং আহানা (সানিয়া মালহোত্রা) একটি পরিস্থির মধ্যে নিজেদের খুঁজে পায়। যখন তারা আবিষ্কার করে যে তাদের যৌন মিলনের একটি ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। এক বড়লোকি ছেলের সাথে কয়েকদিনের মধ্যে আহানার রূপকথার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। আকাশ সাহসিকতার সাথে তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে, তারা এর তলায় যাওয়ার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, একজন প্রাক্তন আসামী, বিট্টু (অভিষেক বচ্চন) ছয় বছর পর জেল থেকে মুক্তি পায়। তার স্ত্রী এবং ছোট মেয়ে চলমান জীবনের সাথে এগিয়ে গেছে। একটি শিশু অপহরণের মামলায় জড়িয়ে পড়ে। এই প্লটে বিট্টুর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের পুনরাবৃত্তি, এই ছবির সবচেয়ে সমস্যাজনক অংশ।

অলোক (রাজকুমার রাও) একটি মজনুটাইপ প্রেমিকা ও আলু মত সর্বব্যাপী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এখনও তার শৈশবের প্রেমিকা পিঙ্কি (ফাতিমা সানা শেখ) প্রেমে আছে, যিনি বিবাহিত এবং একটি শিশু আছে। একই সময়ে, যখন একজন কর্তব্যনিষ্ঠ স্ত্রী পিঙ্কি (সানা ফাতিমা শেখ) জানতে পারে যে তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তখন সে তার শৈশবের প্রেমিকা অলোক ওরফে আলু (রাজকুমার রাও) এর কাছে পালিয়ে যায়। তিনি তার সমস্ত বড় এবং ছোট সমস্যার জন্য তার কাছে আসেন। সে অবশ্যই মেনে চলে, একই সাথে গোপনে তার হৃদয় থেকে কাঁদতে থাকে।

অন্যত্র, একজন ডাউন অন লাক সেলসম্যান, রাহুল (রোহিত সরাফ) এবং একজন নার্স, যিনি কর্মক্ষেত্রে বারবার উত্ত্যক্ত করা হয়, শিজা (পার্লে মণি) তাদের নিজ নিজ দিন ঘুরে, তারা জানে না যে শীঘ্রই তাদের জীবন নাটকীয় মোড় নেবে। অনিচ্ছাকৃতভাবে তারা এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।

মুভিটির আসল ধামাকা ম্যাচিয়রড চাইল্ড আর্টিস্ট এনায়েত বার্মা, যার জন্যে ক্রাইম, থ্রিল, রোম্যান্স, অ্যাকশন, কমেডি, ইমোশনের মত টুইস্ট প্লটের সন্নিবেশ ঘটেছে। জায়গাভেদে একটু কনফিউশন কাজ করবে, সাথে অ্যাডাল্ট সিন বলতে যা বোঝায়, তার জন্য অল্প-সল্প অস্বস্তি। তবু, হাস্যরস, প্রেম আর ভরপুর বিনোদনের কোন ঘাটতি নেই। এখন পর্যন্ত এই মুভির উপর দর্শক আর ক্রিটিক রেটিং পড়েছে ৩/৫।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *