করোনা আক্রান্ত গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ালো

বাংলাদেশ

হাসান ওয়ালী:
করোনা আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ২৮ এপ্রিল মারা গেছেন দৈনিক সময়ের আলোর নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবির খোকন। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণে সেটিই প্রথম কেনো সাংবাদিকের মৃত্যু। গতকাল পর্যন্ত সে মৃত্যুর তালিকায় যোগ হয়েছে ৩৭ ‘সম্মুখযোদ্ধা’ সাংবাদিকের নাম। আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭ জন গণমাধ্যম কর্মী। সুস্থ হয়েছেন ৯৪১ জন।

গণমাধ্যম কর্মীদের ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘আওয়ার মিডিয়া, আওর রাইটস (আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের অধিকার)’ গতকাল (৭ নভেম্বর) এ তথ্য হালনাগাদ করেছে। প্ল্যাটফর্মটি শুরু থেকেই করোনায় গণমাধ্যমকর্মীদের আক্রান্ত হবার খোঁজ রাখছিল।

তাদের তথ্যমতে, সারাদেশের ১৯১টি গণমাধ্যমের কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৬টি পত্রিকা, ৩২টি টেলিভিশন, ৩৬টি অনলাইন পোর্টাল, ৫টি রেডিও এবং ২টি নিউজ এজেন্সি রয়েছে। আর আক্রান্ত ১০০৭ জন সাংবাদকর্মীর মধ্যে ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৭০৮ জন। আর দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনার সাথে লড়েছেন ২৯৯ জন।

‘আওয়ার মিডিয়া, আওয়ার রাইটস’- এর প্রধান সমন্বয়ক ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সিনিয়র রিপোর্টার আহম্মদ ফয়েজ চারদিক২৪ ডট কমকে বলেন, ‘আমরা আক্রান্ত গণমাধ্যমকর্মীদের হিসেবটা রেখে ফ্লোটা বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে, বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মীর আক্রান্ত হওয়ার কারণটা কী আসলে? আমরা শুরু থেকেই দেখেছি, গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠনসমূহ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাপনায় যে সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে দূর্বলতা ছিল।’

করোনার সেকেন্ড ওয়েভের যে আশংকা করা হচ্ছে তাতে গণমাধ্যম কর্মীদের ঝুঁকি কমাতে ‘গাইডলাইন’-এর কথা বলছেন আহম্মদ ফয়েজ। ‘করোনার যে সেকেন্ড ওয়েভ আসছে, তার মধ্যেও তো গণমাধ্যম কর্মীদের বসে থাকার সুযোগ নেই। তারা কীভাবে কাজ করবে তার জন্য একধরণের গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন, যা এখন পর্যন্ত নাই। আগামীতে গণমাধ্যম কর্মীদের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল আলম তপুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের নিজেদেরও জীবন ও জীবিকার সুরক্ষার প্রয়োজন। এ সুরক্ষা দেওয়ার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মালিক পক্ষের।’

আর সরকারের কাছেও দফায় দফায় জোরালো দাবি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, করোনাকালে কোনো সাংবাদিককে যাতে ছাঁটাই করা না হয়, সে ব্যাপারে যাতে উদ্যোগ নেয়া হয়।’

এছাড়া, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সামগ্রীর তত্ত্বাবধানে মনিটরিং সেল, বিশেষ ঝুঁকিভাতার ব্যবস্থা করা, কর্মরত সাংবাদিক করোনা আক্রান্ত হলে তার ব্যয়ভার বহন করার মত দাবিগুলোও সরকার এবং গণমাধ্যম মালিকদের কাছে নিয়মিত করা হচ্ছে বলে জানান এই সাংবাদিক নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *