আকরাম হোসেন নাঈম:
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। নরসিংদী জেলার লাল মাটির আধিক্যযুক্ত শিবপুর ও বেলাব উপজেলার গ্রাম গুলোর ঝোপ-ঝাড় ও জঙ্গলে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠত লটকন ফলের গাছ। মানুষের কাছে এর পরিচিতি ছিল জংলি ফল হিসেবেই। তবে সময়ের ব্যবধানে এই লটকন ফলের বানিজ্যিক চাষ নরসিংদীর কৃষকদের সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে এই লটকন বাগানকে ঘিরে তৈরী হয়েছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা। লটকনের মৌসুমে বাগান দেখতে জড়ো হচ্ছেন অনুক মানুষ।
জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস লটকনের ফলনের সময়। তবে,সারা বছরই লটকনের চারা লাগানো যায়। ‘‘চারা আলাদা করে কিনতে হয় না। গাছ থেকে লটকন পড়ে বা পাখি খেয়ে যে লটকন ফেলে দেয় সে লটকন থেকেই চারা গজায়। সে চারা লাগাই। লাগানোর চার বছর পর থেকে গাছে লটকন ধরতে শুরু করে। মৌসুম শেষে গাছের গোড়ায় কিছু মাটি বা গোবর দিই’’, বলছিলেন লটকন বাগানের মালিক আক্কাস আলী।
লটকন বাগানের আরেক মালিক আব্দুল মালেক জানান, বর্তমানে এই ফল মানুষের কাছে খুব পছন্দের। একটা গাছে ৩০ থেকে ৫০ কেজি লটকন হয়। আর প্রতি কেজি পাইকারী মূল্যে বিক্রি হয় ৬০থেকে ৭০ টাকা করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের বাগান রয়েছে। ১৫-২০ বছর আগেও লটকনের বাগান ছিল না; অন্যান্য ফলগাছের সঙ্গে দু-একটি গাছ লাগানো হতো। বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লটকন চাষ।
আর এই ফলের বহুল চাষে লটকনের মৌসুমে নতুন রূপ পায় নরসিংদীর বিভিন্ন এলকা। অধিকাংশ গাছেরই গোড়ালি থেকে শাখা-প্রশাখায় লটকনে জড়িয়ে আছে। দেখতে মনে হয় যেন পুরো গাছে লটকনের ফুল ফুটছে।
লটকন ফলের জন্য ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নরসিংদী—এই তিন জেলা বেশ খ্যাত। তবে নরসিংদীর বলটকন’ আকার ও স্বাদে অন্য দুই জেলার চেয়ে বেশ বড় ও সুস্বাদু। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। অন্যান্য ফলের চেয়ে লটকনে আয়রনের পরিমাণও বেশি।
যেভাবে ঘুর আসতে পারেন !
ঢাকার সায়েদাবাদ বা উত্তরা থেকে নরসিংদীর মরজাল বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পরিবহনভেদে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৮০ থেকে ১১০ টাকা। কমলাপুর থেকে ট্রেনেও মরজাল রেলস্টেশনে নামা যাবে। মরজাল থেকে অটো বা রিকশায় ঘুরে বেড়ান ‘লটকন’ বাগানে।
আকরাম হোসেন নাঈম: স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।